সিওল: একেবারে প্রধান শত্রুর শিবিরে যোগদান৷ তাও আবার বিভিন্ন গোপন তথ্যের ডালি নিয়ে৷ উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা যোগ দিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায়৷ সীমান্ত পার করে তাঁর নিরাপদে দেশত্যাগের ঘটনায় আলোড়িত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গুপ্তচর সংস্থা৷ যদিও দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার দেশত্যাগী এই গুপ্তচরের নাম বলতে চায়নি৷ সিওল কেবল জানিয়েছে, বছরখানেক হল কিম জং উনের শিবির ত্যাগ করে এই গুপ্তচর কর্তা দক্ষিণ কোরিয়ায় পালিয়ে এসেছেন৷ উত্তর কোরিয়ায় থাকার সময় তিনি ছিলেন সেদেশের সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর একজন কর্নেল৷ অন্যদিকে পদস্থ এই গোয়েন্দা কর্তার দেশত্যাগের বিষয়ে নীরব পিয়ং ইয়ং৷ গোয়েন্দা কর্তার শিবির বদলানোর খবরটি দক্ষিণ কোরিয়া এমন এক সময়ে দিল যখন পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা নিয়ে কোরীয় উপদ্বীপ অঞ্চলে প্রবল হুঙ্কার দিচ্ছেন উত্তরের সর্বময় শাসক কিম জং উন৷ উত্তর কোরীয় উন্মাদ ও স্বৈরাচারী শাসকদের হাত গলে কর্নেল পদমর্যাদার কোনও গোয়েন্দার দেশত্যাগ কোরীয় রাজনীতিতে বিরল৷ তার কারণ, কিম জং উনের ঠাকুরদা কিম ইল সুংয়ের সময় থেকে উত্তর কোরিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পদমর্যাদার কেউ পালানোর চেষ্টা করছে টের পেলেই তাকে তৎমুহূর্তে চিরতরে ‘সরিয়ে’ দেওয়া হয়৷ উত্তরের গুপ্তচর কর্তার পেশ-করা তথ্য দক্ষিণ কোরিয়ার পার্ক গিউন সরকারের কাছে খুবই গুরুত্ব পেয়েছে৷ ১৯৫০-১৯৫৩ সালের ভয়াবহ কোরীয় যুদ্ধের পর থেকে এখনও পর্যন্ত ২৮ হাজারের কিছু বেশি উত্তর কোরীয় নাগরিক থার্টিএইট প্যারালাল পেরিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় পালিয়ে যেতে পেরেছেন৷