মস্কো: কয়েকদিন আগেই রাশিয়ায় একটি রকেট বিস্ফোরণে বিজ্ঞানীদের নিহত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। রাশিয়ার সেই ঘটনায় পাঁচজন পরমাণু বিশেষজ্ঞের মৃত্যু হয়। কিন্তু কোনও পরীক্ষা চালাচ্ছিল রাশিয়া তা নিয়ই উঠেছিল প্রশ্ন।

পরীক্ষাটি চালানো হচ্ছিল আর্কটিক সাগরের উপর। এখানেই রুশ নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ হয়। রাশিয়া এর আগে পরমাণু শক্তিচালিত মিসাইল ‘বুরেভেস্টনিকের’ পরীক্ষা চালিয়েছিল। বৃহস্পতিবারের ওই দুর্ঘটনার দিন কোন ধরণের অস্ত্র নিয়ে পরীক্ষা চলছিল, তা কেউ স্পষ্টভাবে বলছে না।

সেভারোডভিনস্ক নামে একটি শহর আছে এই অঞ্চলে। এই বিস্ফোরণের পর ৪০ মিনিট ধরে সেখানে হঠাৎ করে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বেড়ে গিয়েছিল। তেজস্ক্রিয় বিকিরণ ঘন্টা প্রতি দুই মাইক্রোসিয়েভার্ট বেড়ে যায়। তবে তারপর আবার এটি কমে যায়। তবে এই বিকিরণের মাত্রা এতই কম যে তা থেকে কারও অসুস্থ হওয়ার ভয় ছিল না।

বিশেষজ্ঞদের মতে সেখানে খুব সম্ভবত ‘নাইন-এম-সেভেন-থার্টি বুরেভেস্টেনিক’ নিয়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছিল। গতবছর রাশিয়ার পার্লামেন্টে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট পুতিন এই মিসাইলের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এই মিসাইল যে কোন দূরত্বে আঘাত হানতে পারে।

অথবা হতে পারে নতুন ধরণের দূর পাল্লার এক ড্রোন, পসাইডন। এটি সাগরের নীচ দিয়ে যায় এবং সাবমেরিন থেকে পরিচালনা করা যায়।

প্রথমে রাশিয়ার তরফে জানানো হয়েছিল, একটি রকেট দুর্ঘটনায় দুজন মারা গিয়েছে। তবে পরে জানা যায় এই দুর্ঘটনায় রেডিও আইসোটোপ জ্বালানির সম্পর্ক আছে এবং এটি ঘটেছে সাগরের মাঝখানে নির্মিত প্লাটফর্মে। তবে পরীক্ষাটি নাকি ভালোভাবেই শেষ হয়েছিল। কিন্তু তারপরই সেখানে আগুন ধরে যায় এবং ইঞ্জিনটি বিস্ফোরিত হয়। তখন এই পাঁচজন বিস্ফোরণের ধাক্কায় উড়ে গিয়ে সাগরের জলে পড়ে ও মৃত্যু হয় তাঁদের।