নয়াদিল্লি: জইশ-ই-মহম্মদের বালাকোট জঙ্গি ক্যাম্পে ভারতীয় বায়ু সেনার সার্জিকাল স্ট্রাইক পাকিস্তান এবং জইশকে আবাক করে দিয়েছে৷ এত দ্রুত তারা পাল্টা জবাবের আশা করেনি বলে মনে করা হচ্ছে৷ পুলওয়ামা ঘটনার ঠিক ১২ দিনের মধ্যে ভারত ৪০ জন জওয়ানদের প্রতিশোধ নিতে সফল হয়েছে৷

জেনে নিন এই ক্যাম্পের খুঁটিনাটি…

সূত্রের খবর, জইশ-ই-মহম্মদের বালাকোটের জঙ্গি ক্যাম্প পাকিস্তানের কুনহর নদির ধারে তৈরি করা হয়েছিল৷ এই ক্যাম্পকে জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হত৷ এই প্রশিক্ষনের কাজ প্রাক্তন পাক সেনার কর্তারা করত বলে জানা যাচ্ছে৷

পুলওয়ামা হামলার পরে জঙ্গি শিবিরকে বালাকোটের এই পাঁচ তারা ক্যাম্প গুলিতে স্থানান্তর করা হয়েছিল৷ তবে এই স্থানান্তরের কোনও লাভ হল না বলে মত বিভিন্ন মহলের৷ তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো জঙ্গি ঘুমের ঘোরেই খতম হয়ে গিয়েছে৷ বালাকোট ক্যাম্পের প্রধান ইউসুফ আজাহারের আইসি ৮১৪ হাইজ্যাকিং মামলায় সিবিআই খোঁজ করছিল৷ তার বিরুদ্ধে ২০০০ সাল থেকে রেড কর্নার নোটিস জারি করা হয়েছিল৷ সে জইশের প্রধান মসুদের সম্পর্কে শালা ছিল বলে জানা যায়৷

আরও পড়ুন: আমেরিকা, চিন সহ বিশ্বকে এয়ার স্ট্রাইকের খবর শোনালেন সুষমা

বালাকোট ক্যাম্প জইশ এবং অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের জন্য গুরুত্বপুর্ণ ক্যাম্প ছিল৷ এই ক্যাম্প থেকে বহু জঙ্গি কে প্রশিক্ষন দিয়ে বিভিন্ন নাশকতার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে৷ এই ক্যাম্পে ৫০০ থেকে ৭০০ জঙ্গি কে রাখা সম্ভব ছিল৷ এই ক্যাম্পে জঙ্গিদের জন্য সুইমিং পুল এবং রান্নার সুব্যবস্থা ছিল৷

আরও পড়ুন: ‘প্রস্তুত থাকলেও অন্ধকারের জন্যেই নাকি জবাব দিতে পারেনি পাকিস্তান’

এই ক্যাম্প বালাকোট শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটারের দুরত্বে ছিল৷ এই ক্যাম্পটিকে জঙ্গিদের কঠিন প্রশিক্ষন দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত৷ এখানে মসুদ আজহার এবং অন্যান্য প্রথম শ্রেণির জঙ্গি নেতারা ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ভাষণ দিতে আসত৷

আরও পড়ুন: এয়ার স্ট্রাইকের পুরো ভিডিও রেকর্ড করেছে বায়ুসেনা

বালাকোট শহরের দুরত্ব লাইন অফ কন্ট্রোলের কাছে আবোটাবাদ থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার৷ আবোটাবাদেই মার্কিন সেনা আলকায়দার প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানের নজর বাঁচিয়ে খতম করেছিল৷

এই ক্যাম্পে মুলত মসুদের আত্মীয় এবং জঙ্গিদের অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে প্রশিক্ষন দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হত৷ সূত্রের খবর জইশের আগে এই ক্যাম্পকে হিজবুল মুজাহিদিন ব্যবহার করত৷

বালাকোট ক্যাম্পে জঙ্গিদের অত্যাধুনিতক অস্ত্র, বিস্ফোরকের পাশাপাশি বড়শড় নাশকতার পরিকল্পনা করানোরও প্রশিক্ষন দেওয়া হত৷ এছাড়াও এই ক্যাম্পে আইইডি তৈরি করা, এবং আত্মঘাতি হামলারও প্রশিক্ষন দেওয়া হত বলে সূত্রের খবর৷