নিউজ ডেস্ক: হাওড়ায় দাবা প্রশিক্ষকের বাড়িতে লুঠের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন একজন। ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছে পুলিশ। মধ্য হাওড়ার রাজবল্লভ সাহা লেনে দাবা প্রশিক্ষকের বাড়িতে লুঠের ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে। তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

অভিযোগ, সোমবার দুপুরে এক দুষ্কৃতি দল স্থানীয় দাবা প্রশিক্ষক তথা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী দিলীপ দাসের বাড়িতে ঢোকে। সেই সময় গৃহকত্রী মান্তু দাস ঘরে কাজে ব্যস্ত ছিলেন। দুষ্কৃতিরা ঘরে ঢুকে মান্তুদেবীকে আঘাত করে ঘরের আলমারি থেকে নগদ কয়েক হাজার টাকা ও বেশ কয়েক ভরি ওজনের সোনার কয়েন, ভিডিও ক্যামেরা সহ বেশ কিছু জিনিসপত্র নিয়ে চম্পট দেয়।

ঘটনার সময় মান্তুদেবীর ছেলে রাহুল বাড়িতে থাকলেও তিনি বাথরুমে ছিলেন বলে দাবি করেছেন। বাথরুম থেকে ফিরে এসে বারেবারে দরজা ধাক্কা দিকেও না খোলায় সন্দেহ হয় তাঁর। রাহুলের দাবি তিনি এরপর ঘরের দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে গামছা দিয়ে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মাকে উদ্ধার করেন। পরে আহত মান্তুদেবীকে হাওড়ার একটি বেসরকারী হাসপাতালে ভরতি করা হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হাওড়া থানার পুলিশ। ডাকা হয় হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের ফিংগার প্রিন্ট বিশেষজ্ঞদের। ঘরের ভিতর লণ্ডভণ্ড হয়ে থাকা জিনিসপত্র ও আলমারিতে লেগে থাকা দুষ্কৃতিদের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

মান্তুদেবীর ছেলে রাহুলদেব দাস জানান, দুপুর আড়াইটে নাগাদ সে প্রায় ঘন্টাখানেক বাথরুমে ছিল। তাই ঘরে লুঠপাট বা হামলা চললেও সে কিছু টের পায়নি।অন্যদিকে হাসপাতালে গিয়ে আহত মান্তু দেবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের কাছে মান্তুদেবী জানান, ঠিক কতজন হামলাকারী ছিল এবং কি কি ঘটনা ঘটেছে তা পুরোপুরি মনে নেই।

মান্তুদেবীর স্বামী দিলীপবাবু জানান, কয়েকদিন আগেই বন্ধক থেকে ছাড়িয়ে আনা হয়েছিল ৫টি সোনার কয়েন। সেই সোনার কয়েনগুলিও খোওয়া গেছে এই ঘটনায়। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাহুলের কয়েকদিন পরেই অমরনাথ যাত্রায় যাওয়ার কথা।

তদন্তে নেমে পুলিশ বেশ কয়েকটি প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। প্রশ্নগুলির উত্তর একত্রিত করেই তদন্তে এগোতে চাইছে পুলিশ। যেমন,দিনে দুপুরে ঘটনাটি ঘটলেও প্রতিবেশীরা কেন কিছু টের পেল না। ঘরের লাগোয়া বাথরুমে থাকা ছেলে রাহুল কেন কিছু জানতে পারলনা। দুষ্কৃতিরা কি মায়ের পরিচিত যে কারণে মান্তুদেবী প্রথমে চেঁচামেচি করেননি? অভিযোগপত্রে মান্তুদেবীকে ভারী কিছু দিয়ে মারধর ও হাত-পা বেঁধে রাখার কথা জানালেও আহত মান্তুদেবীর শরীরে আঘাতের ও বেঁধে রাখার কোন চিহ্ন পাওয়া গেলনা কেন। এই প্রশ্নগুলি এক জায়গায় আনতে পারলেই পুরো ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ধৃত কৌশিক ধাড়াকে ওরফে জয় দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে কৌশিক মান্তুদেবীর ছেলে রাহুলের বন্ধু। ঘরে বসেই তাঁর ছেলে রাহুলের সঙ্গে নেশা করার জন্য কয়েকদিন আগে কৌশিককে মারধর করেছিলেন এবং বাড়িতে ঢুকতে বারণ করা হয়েছিল। সেই সময় রাহুল মান্তুদেবীকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

তাহলে মারধরের বদলা নিতেই কি এই হামলা? মঙ্গলবার হাওড়া আদালতে কৌশিককে পেশ করে নিহেদের হেফাজতে নিয়ে ফের জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ। এদিকে, যে নার্সিংহোমে মান্তুদেবী ভর্ত্তি রয়েছেন সেই নার্সিংহোম সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘটনার পর মান্তুদেবী রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন। ওনার নার্ভাস ব্রেকডাউন হয়েছে। কোনও এক ভয়ের কারণে মানসিক উদ্বেগে রয়েছেন তিনি।তবে শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই।