আগরতলা: পাথরের গায়ে গায়ে অত্যাশ্চর্য এক আদিম শিল্পকলা৷ কে তার সৃষ্টিকর্তা সঠিক জানা যায় না৷ চারিদিকে শুধুই দেবাদিদেব মহাদেব ও অন্যান্য দেবতাদের প্রতিকৃতি৷ গণনায় মিলেছে ৯৯,৯৯৯,৯৯৯ মূর্তি রয়েছে এখানে৷ অর্থাৎ এক কোটির থেকে মাত্র একটি কম৷ বেশিরভাগই শিবমূর্তি৷ এতেই চমক৷ দুনিয়ার সর্বাধিক শিবমূর্তির স্থাপত্য নিয়ে পরিচিত ত্রিপুরার ঊনকোটি৷ পুরাণ ও ইতিহাসের মেলবন্ধন চমক দিচ্ছে এখানে৷

পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র ঊনকোটি (Unakoti) এলাকা৷ কৈলাসহর থেকে কিছু দূরে রঘুনন্দন পাহাড় জুড়েই ছড়িয়ে এই অপূর্ব কীর্তি৷ রাজধানী আগরতলা থেকে এর দূরত্ব ১৭৮ কিলোমিটার৷

ঊনকোটি নিয়ে গল্প কথা:
কাহিনী (১)
পৌরাণিক কাহিনীতে বলা হয়, কালু কামার নামে একজন স্থপতি ছিলেন৷ তিনি দেবী পার্বতীর ভক্ত৷ একবার পার্বতী ও মহাদেব কৈলাসে যাওয়ার সময় কালু কামার বায়না ধরে যে তাকেও নিয়ে যেতে হবে৷ মহাদেব শর্ত দেন, এক রাত্রির মধ্যে এককোটি দেবদেবীর মূর্তি তৈরি করে দিতে হবে। রাতভর জেগে কালু কামার এককোটি থেকে একটি কম মূর্তি তৈরি করেছিলেন৷ সেই থেকে এলাকার নাম ঊনকোটি৷

কাহিনী (২)
একবার দেবাদিদেব মহাদেব অন্যান্য দেবতাদের সঙ্গে নিয়ে ত্রিপুরার উপর দিয়ে বারাণসী যাচ্ছিলেন। সেই দলে দেবতাদের সংখ্যা ছিল এক কোটি। সন্ধ্যে নামার পর রাত্রিবাসের ব্যবস্থা হয় রঘুনন্দন পাহাড়ে। অনেক হেঁটে ক্লান্ত দেবতারা ঘুমিয়ে পড়েন৷ পরেরদিন মহাদেব ছাড়া অন্য কোনও দেবতার নিদ্রাভঙ্গ হয়নি৷ মহাদেব বিরক্ত হয়ে একাই বারাণসীর উদ্দেশে রওনা হন। গভীর নিদ্রায় সমাধিস্থ দেবতাদের কালনিদ্রা আর ভাঙ্গেনি৷ তারা অনন্তকালের জন্য পাথর হয়ে রইলেন। এই দেবতাদের সংখ্যা ছিল এক কম কোটি তাই ঊনকোটি। সেই থেকেই এই রঘুনন্দন পাহাড় হয়ে গেল শৈবতীর্থ ঊনকোটি।

পুরাতাত্ত্বিক গবেষণা:
ঊনকোটির অপূর্ব শিল্পকলা বারবার গবেষকদের টেনে এনেছে৷ অনেকে এই স্থানকে দ্বিতীয় অজন্ত-ইলোরা সঙ্গে তুলনা করেন৷ এখনও ঊনকোটির সব তথ্য সামনে আসেনি৷

ত্রিপুরা৷ ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলের একটি ছোট্ট রাজ্য৷ মূলত বাংলা ভাষী জনসাধারণের বাসভূমি৷বিশেষ আকর্ষণ স্থানীয় উপজাতি ও তাদের সংস্কৃতি৷দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে ক্রমেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র৷

২০১৬-১৭ অর্থবছরের নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ত্রিপুরার রাজ্যে দেশি-বিদেশি পর্যটক এসেছেন মোট ৯৯ হাজারের বেশি৷
শুধু ঊনকোটি দেখাই নয় ছিমছাম শহর আগরতলার বিখ্যাত উজ্জ্বয়ন্ত প্রাসাদ, ত্রিপুরা স্টেট মিউজিয়াম, চোখ ধাঁধানো নীরমহল, বক্সনগরের বৌদ্ধ স্তূপের প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ, উদয়পুরের ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির, রাজ প্রাসাদ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত মালঞ্চ নিবাস, জম্পুই পাহাড় পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে৷