স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: তিন দিন আগেই নতুন বাড়ি ভাড়া নিয়েছিল প্রতুল বাবু৷ হঠাৎই বৃহস্পতিবার গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার করে সেই বাড়ি থেকেই৷ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর ২৪ পরগণার খড়দহ থানার শান্তিনগর কাঠপুল এলাকায়৷ মৃত ব্যক্তির নাম প্রতুল চক্রবর্তী (৪৩)৷

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় মাত্র তিনদিন আগে শ্যামল মজুমদারের বাড়ির দোতলায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে ছিলেন প্রতুল বাবু৷ স্থানীয় এক এজেন্টের মাধ্যমে মাসিক তিন হাজার টাকার চুক্তিতেই বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি৷ প্রতুল বাবুকে শ্যামল মজুমদারের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ঘর ভাড়ার ব্যবস্থা করিয়ে দেন ওই এলাকার স্থানীয় এজেন্ট অমিতাভ রায় চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার সকালে শ্যামল বাবুর বাড়ির দোতলায় প্রতুল চক্রবর্তীর ঘর থেকে খাবারের টিফিন বক্স চাইতে যান স্থানীয় এক হোম ডেলিভারি সংস্থার কর্মী কাশীনাথ ভট্টাচার্য। তিনি অনেক ডাকাডাকি করেন৷ কিন্তু তাঁর কোনও সাড়া শব্দ পাননি কাশীনাথ ভট্টাচার্য৷ তাই তিনি বাধ্য হয়ে দরজায় ধাক্কায় দেন৷ তখন ধাক্কা দিতেই প্রতুল বাবুর ঘরের দরজা খুলে যায়৷

কাশীনাথ বাবু জানান, তিনি ঘরে ঢুকতেই দেখেন মৃত অবস্থায় ঘরের বিছানায় পড়ে রয়েছে প্রতুল বাবুর নিথর দেহ। মৃতের গলায় দড়ির ফাঁস আটকানো অবস্থায় রয়েছে। এরপরই তিনি প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন৷ খবর দেওয়া হয় খড়দহ থানায়।

খবর পেয়ে ওই ভাড়া বাড়িতে আসেন বাড়ির মালিক শ্যামল এবং এজেন্ট অমিতাভ। এজেন্ট অমিতাভ রায় চৌধুরী বলেন, ‘মৃত ব্যক্তির সঙ্গে আমার সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে পরিচয় হয়। মৃতদেহ যে অবস্থায় পড়েছিল তাতে মনে হচ্ছে ওনাকে খুন করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে ওনার এই ভাড়া বাড়িতে তার পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে দেখা করার কথা ছিল বলে জানিয়েছিলেন প্রতুল বাবু। তিনি এই এলাকায় বাড়ি ভাড়া খুঁজছিলেন। বলেছিলেন আগে তিনি থাকবেন৷ কয়েকদিন পর তার পরিবারের সদস্যরা এসে থাকতে শুরু করবেন। আমি তিনদিন আগে ওনাকে শ্যামল মজুমদারের বাড়ির দোতলায় থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলাম।

উনি ঘোলা এবং কেষ্টপুরে দুটি অফিস নিয়েছিলেন। নিজেই ছোটখাটো এক বেসরকারি সংস্থার মালিক পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি। ওনার দেশের বাড়ি মহারাষ্ট্রের গুড়গাঁওতে বলে জানিয়েছিলেন। পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত করলেই গোটা ঘটনা পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

প্রতীকী ছবি

এদিকে বাড়ির মালিক শ্যামল মজুমদার বলেন, ‘চলতি মাসের ১৭ তারিখে তিনি এই বাড়ি ভাড়া নেন৷ মাসিক তিন হাজার টাকার চুক্তিতে। মাত্র তিন দিনের মধ্যেই এত বড় দুর্ঘটনা ঘটল৷ ভাবতেই পারছি না। রাতে বাইরে কেউ কোন চিৎকার শোনেনি। তবে বুধবার সন্ধ্যার পর ঘরে হয়ত ওনার পরিচিত কেউ এসেছিল। তবে প্রকৃত ঘটনা কি ঘটেছে তা তদন্ত সাপেক্ষ।’

বৃহস্পতিবার মৃত ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করে বারাকপুর মর্গে ময়নাতদন্তে পাঠায় পুলিশ। খড়দহ থানার পুলিশ এজেন্ট অমিতাভ, বাড়ির মালিক শ্যামল মজুমদার এবং অপর এক প্রত্যক্ষদর্শীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে যান বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি (অঞ্চল ১) অভিষেক গুপ্তা। তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে মৃত্যুর কারন স্পষ্ট হবে। মৃতের পরিবারের আত্মীয়দের সঙ্গে পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হচ্ছে।