স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: সন্ধ্যা নামলেই আচমকা উড়ে আসছে ঢিল৷ আহত হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ তাই মাথা বাঁচাতে এখন বাড়ির হাঁড়ি-কড়াই ভরসা জলপাইগুড়ি রেসকোর্স পাড়ায়৷ কেউ ব্যবহার করছেন হেলমেট৷আর তা মাথায় দিয়েই চলছে যাতায়াত৷

শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে এই ঘটনার জেরে রীতিমতো হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে ওই এলাকায়৷ যদিও এই ঘটনার সূত্রপাত এক সপ্তাহ আগে৷ স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রথমে ঢিল পড়ছিল এলাকার বাড়িগুলিতে৷ শুক্রবার সন্ধ্যায় আচমকা এলাকার রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করলেই ঢিল ছোড়া হচ্ছে৷ কেন এমন হচ্ছে, তা নিয়ে সন্দিহান স্থানীয় কোতয়ালি থানার পুলিশও৷ আপাতত তারা গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছে৷

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে সন্ধ্যার পর ঢিল পড়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। পড়ুয়াদের পড়াশুনা থেকে শুরু করে বাড়ির কাজকর্ম সন্ধের পর থেকে সব বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। আর যাঁরা বের হতে বাধ্য হচ্ছেন, তাঁদের কেউ মাথায় হেলমেট পরে বেরোচ্ছেন৷ আবার কেউ থালা, বাসন, হাঁড়ি, কড়াই৷ এলাকার বাসিন্দা ঝরনা দে-র অভিযোগ, ‘‘গত সাত দিন ধরে সন্ধ্যার পর থেকে আমরা ঢিলের আতঙ্কে প্রায় গৃহবন্দি হয়ে পড়েছি। ঢিলের আঘাতে বাড়ির চাল ভেঙে গিয়েছে। সামনে প্রতিটি স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা রয়েছে। ঢিলের আতঙ্কে বাচ্চারা পড়াশুনা করতে পারছে না৷’’

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে শুক্রবার রাতে ওই গ্রামে পুলিশ পৌঁছে যায়৷ রাতভর পুলিশি টহল চলে৷ কিন্তু তার পরও ঢিল পড়ার রহস্যের সমাধান হয়নি৷ কাউকে গ্রেফতারও করতে পারেনি পুলিশ৷ তবে জলপাইগুড়ির কোতয়ালি থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে৷