বুয়েনস আইরেস ও নেপিদ: বিপদের মুখে সু কি। মায়ানমারের সর্বময় নেত্রী তথা সে দেশের প্রধান এই নোবেল জয়ীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন ও গণহত্যার অভিযোগ তুলে মামলা দায়ের হয়েছে। তবে মায়ানমারের নয়, এই মামলা হয়েছে আর্জেন্টিনায়।

মামলাকারীরা আশা করছেন রায়ে, সু কি ও মায়ানমারের সেনা প্রধান মিন অং হ্লাংয়ের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদ গার্ডিয়ান জানাচ্ছে, ইউনিভার্স জুরিসডিকশনের অধীনে এই মামলার মূল কথা হল, যুদ্ধ অপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ হলে যে কোনও দেশেই বিচার হতে পারে।

আগে এই রকম মামলায় আর্জেন্টিনার আদালতেই স্পেনীয় একনায়ক শাসক জেনারেল ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কোর বিচার হয়েছিল। ১৯৩০ দশকে ফ্রাঙ্কোর নেতৃত্বে স্পেনে ক্ষমতা দখলের জন্য গণহত্যা চালানো হয়। বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ব্রিটেনের সভাপতি তুন তিন জানিয়েছেন, মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর গণহত্যার নজির তৈরি করেছে সু কি নেতৃত্বাধীন সরকার।

এবারের মামলাকারীদের অভিযোগ, মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ বা পূর্বতন আরাকানে থাকা লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গার উপর বর্মী সেনা হামলা চালায়। হয় গণহত্যা ও গণধর্ষণ। আর এর পরেই ১০ লক্ষের মতো রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশের চট্টগ্রামে ঢুকে পড়ে।

আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য় বাংলাদেশে তৈরি হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবির। চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জুড়ে চলছে এই শিবির। ঢাকার অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে গড়িমসি করছে সু কির সরকার।

সু কি মায়ানমারের সর্বময় নেত্রী হলেও রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনে কোনও পদক্ষেপ নেননি বলেই আন্তর্জাতিক মহস আগেই সরগরম।বারবার তাঁর নেবেল পুরষ্কার ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিও উঠেছে। যদিও মায়ানমার সরকারের দাবি, রোহিঙ্গা সশস্ত্র শিবির থেকে হামলার পরেই সামরিক অভিযান হয়েছিল রাখাইন প্রদেশে।