আইজল: মায়ানমারের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ জনতা যখন সে দেশের রাজপথে বিক্ষোভ চালিয়ে শ’য়ে শ’য়ে প্রাণ দিচ্ছেন, তখন ভারত সীমান্তের দুর্গম এলাকায় জমছে বিদ্রোহীদের ভিড়। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের খবর, এই বর্মী বিদ্রোহীরা মিজোরামের মাটিতে শিবির তৈরি করেছে। তারা সশস্ত্র পথে নিজ দেশের সেনা সরকারকে সরাতে মরিয়া।

রয়টার্স কে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরার খবর, ভারত সীমান্তের কয়েকটি গ্রামে চলছে বর্মী বিদ্রোহীদের শিবির। মিজোরাম সরকার এদের বিষয়ে অবগত। তবে কোনওরকম সশস্ত্র কর্মসূচি বরদাস্ত করা হবেনা বলেই জানিয়েছে মিজো সরকার।

বিবিসি জানাচ্ছে, মায়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দিয়ে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থান ঘটিয়েছে ফের ক্ষমতা দখল করেছে বর্মী সেনা। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি এই অভ্যুত্থানে বন্দি করা হয় দেশটির সর্বচ্চো নেত্রী আউং সান সু কি সহ সরকারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট ও বাকি নেতা মন্ত্রীদের। ক্ষমতাচ্যুত এনএলডি দলের কিছু নেতা আত্মগোপন করতে পেরেছেন। তাঁরাই সু কি নির্দেশিত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সামিল। এদিকে সেনা বনাম জনতার সংঘর্ষে রক্তাক্ত মায়ানমারের রাজধানী নেপিদ। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ শহর ইয়াঙ্গনে মৃত্যু হয়েছে বহু বিক্ষোভকারীর। আর মায়ামমার ও ভারত সীমান্তের দুর্গম এলাকায় সেনা বাহিনির বিরোধী গোষ্ঠীগুলি ফের ততপর লড়াই চালাতে।

ছবি সৌজন্যঃ রয়টার্স

রয়টার্সের খবর, মায়ানমারের লাগোয়া ভারতের মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, মনিপুর ও অরুণাচল প্রদেশের সরকার অভ্যুত্থানের দিন থেকেই সতর্ক। দুই দেশের সীমান্তে জারি অতিরিক্ত সতর্কতা। আশঙ্কা বর্মী বিদ্রোহীদের সঙ্গে উত্তর পূর্বাঞ্চল ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলির সংযোগ হবেই। তাদের মাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করবে বর্মী বিদ্রোহীরা।

মায়ানমারে সঙ্গে ভারতের ১,৬০০ কিলোমিটারের বেশি আন্তর্জাতিক সীমান্ত। সীমান্তের ওপারে মায়ানমারের তিনটি অঞ্চল চিন প্রদেশ, সাগিয়াং প্রদেশ ও কাচিন। এ সবই অতি দুর্গম এলাকা ও ভারত বিরোধী আলফা (স্বাধীনতা), এনএসসিএন (খাপলাং), কেএলও সহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটি।

দুর্গম এলাকায় মিজোরামের মাটিতে বিদ্রোহী বর্মীদের শিবির নিয়ে ওয়াকিবহল রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। রয়টার্স জানাচ্ছে, মিজো পুলিশের কর্মকর্তারা বর্মী শিবিরের দিকে লক্ষ্য রেখেছেন। কোনওরকম সশস্ত্র কর্মকাণ্ড দেখলেই আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের ভারত থেকে হটিয়ে দেওয়া হবে।

মায়ানমারের সর্বচ্চো নেত্রী সু কি দ্রুত মুক্তি পান আন্তর্জাতিক এই জনমত যত চাপ দিচ্ছে ততই কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে দেশটির ক্ষমতা দখলকারী বর্মী সেনার প্রধান মিং অং লাইং। সূত্রের খবর, নোবেলজয়ী নেত্রী সু কি এখন সেনা পাহারায় গোপন স্থানে নজরবন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনে জালিয়াতি করা ও গোষ্ঠী সংঘর্ষের উস্কানিমূলক বার্তা দেওয়ার অভিযোগ এনে বিচার চালাবে সেনা সরকার। অন্তত ১৫ বছরের কারাদণ্ডের সাজা হতে পারে সু কি’র। সেনা সরকারের আরও দাবি, নির্দিষ্ট সময়ে ফের নির্বাচন ঘোষণা করা হবে।

সেনাবাহিনির সঙ্গে সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই গণতন্ত্রকামী বিদ্রোহী ৮০০ জন মৃত। অভিযোগ,গণহত্যা চালাচ্ছে বর্মী সেনা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের কটাক্ষ, রোহিঙ্গা গণহত্যায় সামিল সেনাবাহিনিকে নীরবে সমর্থন করেছিলেন সু কি। এখন তিনি তাদেরই হাতে নজরবন্দি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.