নেপিদ: চিনে ব্রিকস সম্মেলনের পর মায়ানমার সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ মঙ্গলবারই তিনি চিনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সেরে পৌঁছে যান মায়ানমারে৷ সেখানে তাঁকে সাদর অভ্যর্ত্থনাও জানানো হয়৷ মঙ্গলবারই দেখা করেন প্রেসিডেন্টে ইউ হতিন ক্যাব-এর সঙ্গে৷ আজ, বুধবার মায়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর আন সান সু কি-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন৷ দুই দেশের সম্পর্ক আরও মজবুত করার প্রসঙ্গেই আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর৷

আরও পড়ুন: ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিমদের ভারত ছাড়া করার প্রক্রিয়া শুরু মোদী সরকারের

সূত্রের খবর, মায়ানমারের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এই সাক্ষাতে খুশি মোদী৷ তিনি এই সাক্ষাতের বেশ কিছু ছবি ট্যুইটারে শেয়ারও করেন৷ তিনি ক্যাব কে সালভিন নদীর( যা তিব্বত থেকে বেরিয়ে আন্দামান সাগরে পৌঁছেছে) ধারা ১৮৪১-এর নকশার নয়া রুপ এবং বোধিবৃক্ষের একটি প্রতিকৃতি মায়ানমারের প্রেসিডেন্যের হাতে তুলে দেন৷ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে গার্ড অব অনার-ও দেওয়া হয়৷

আরও পড়ুন: রোহিঙ্গা জঙ্গিদের মদত দিচ্ছে লস্কর-আইএসআই

প্রসঙ্গত, রোহিঙ্গা মুসলিমরা বেআইনি অনুপ্রবেশকারী, ওদের ভারত থেকে বের করেই দেওয়া হবে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে যখন উত্তেজনা মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত, ঠিক সেই সময়ে এমনটাই জানান কিরন রিজিজু।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেনও, আন্তর্জাতিক সংগঠনগুলিকে বলে দিতে চাই, রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনের আওতায় নথিভুক্ত হোক বা না-ই হোক, রোহিঙ্গারা ভারতের চোখে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, আর আইনে যেহেতু ওরা বৈধ অভিবাসনকারী নয়, ওদের ভারত থেকে বের করে দেওয়া হবে। কিছুদিন আগেই রিজিজু সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে ভারতে বসবাসকারী রোহিঙ্গাদের মায়ানমারে ফেরত্ পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সমালোচনা উড়িয়ে পাল্টা রিজিজু বলেন, ভারতই গোটা দুনিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বাস্তুকে আশ্রয় দিয়েছে, গ্রহণ করেছে, অতএব উদ্বাস্তুদের প্রতি কি করা উচিত, তা নিয়ে কেউ যেন তাকে উপদেশ না দেয়!

হিংসা থেকে অব্যাহতি পেতে মায়ানমার ছেড়ে ভারতে এসেছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। প্রায় ১৪ হাজার রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার কমিশনের নথিভুক্ত, তবে বেআইনি ভাবে এ দেশে বসবাস করছে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা।

আরও পড়ুন: নাগা বিচ্ছিন্নতাবাদ না রোহিঙ্গা সমস্যা, মোদীর নজর কোনদিকে ?

মনে করা হচ্ছে, মায়ানমারে এই দ্বিপাক্ষিক সফরে দুই দেশের সম্পর্ক যে আরও মজবুত হবে তেমনটাই মনে করছে অনেকে৷ এর আগে ২০১৪সালেও তিনি মায়ানমারে এক সম্মেলনে গিয়েছিলেন৷ এই সফরের আগে মোদী জানিয়েছিলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতা, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, সাংস্কৃতিক, এমনই বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করার কথা বলেন তিনি৷ কিন্তু ডোকালাম নিয়ে ভারত-চিন সমস্যার সমাধান হলেও, মায়ানমার যে আবার এই দুই দেশকে মুখোমুখি ফের দাঁড় করিয়ে দিতে পারে এমমই আশহ্কা করছে অনেকে৷

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প