বিশেষ প্রতিবেদন: একের পর এক সেনা অভিযান৷ তাতেই দখল করা হয়েছে উত্তর পূর্ব ভারতের একাধিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের ঘাঁটি-ডেরা৷ সূত্রের খবর, নাগা, আলফা জঙ্গিদের পাশাপাশি এবার উত্তরবঙ্গে একসময়ের ত্রাস কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের জঙ্গি শিবির গুঁড়িয়ে দিলে মায়ানমারের সেনাবাহিনী৷ গত কয়েকদিন ধরে একটানা অপারেশন চলছে ভারত সীমান্তবর্তী গভীর-দুর্গম এলাকায়৷ প্রতিবেশী মায়ানমারের জমিতে এই অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র-বিস্ফোরক৷

তবে খবর নেই কেএলও প্রধান জীবন সিংহের৷ আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রামের বাসিন্দা তামির দাস ওরফে জীবন সিংহের সংগঠন কেএলও৷ পৃথক কামতাপুর স্বশাসিত এলাকার দাবিতে সশস্ত্র পথ নেওয়া জীবন সিংহ ২০০৩ সালে ভুটানের জমিতে ঘাঁটি তৈরি করে উত্তর বাংলায় নাশকতা চালিয়েছিল৷ সেই বিখ্যাত অপারেশন অল ক্লিয়ারেও অধরা রয়ে যায় মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি৷

বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকায় মায়ানমার সরকারের নির্দেশে চলছে বিশেষ অভিযান৷ এই অভিযানের ধাপগুলি হল-

প্রথম টার্গেটে নাগা জঙ্গি: বিভিন্ন সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরে সাগিয়াং প্রদেশে চলছে বর্মি সেনার অভিযান৷ নাগা জঙ্গি সংগঠন ন্যাশনাল সোশালিস্ট কাউন্সিল অফ নাগাল্যান্ড বা এনএসসিএন (খাপলাং) সদর দফতরে থাকা সশস্ত্র জঙ্গিরা অস্ত্র নামিয়ে রাখে৷ বিস্ময়করভাবে এখানে গুলি চলেনি একটিও, এমনই দাবি করা হয়েছে৷

দ্বিতীয় লক্ষ্য আলফা: এরপরেই বর্মি সেনা অভিযান সংঘটিত করে অন্যদিকে অসমের জঙ্গি সংগঠন আলফা -আই (ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অফ অসম-ইন্ডিপেন্ডেট) বা আলফা (স্বাধীনতা) ঘাঁটিতে৷ সেখানে দুপক্ষের গুলি বিনিময় হয় বিস্তর৷ সূত্রের খবর, এই ঘাঁটিতে মিলেছে প্রচুর পরিমাণে কার্তুজ, একে৪৭ সহ বিভিন্ন আগ্নেয়াস্ত্র৷

পরের ধাপে কেএলও: বিভিন্ন সূত্রে খবর, মায়ানমারের সাগিয়াং প্রদেশ জুড়ে চলছে সেদেশের সেনা অভিযান৷ এখানেই ভারত বিরোধী একাধিক জঙ্গি সংগঠনের মুক্তাঞ্চল৷ জানা গিয়েছে সাগিয়াং-এর দুর্গম এলাকায় থাকা কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশনের ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় বর্মি সেনা৷ মায়ানমারের কিছু সংবাদপত্র প্রকাশ করেছে সেই ছবি৷ তবে এবারেও জীবন সিংহের কোনও খোঁজ নেই৷

কোচবিহার-জলপাইগুড়ি এবং এখনকার আলিপুরদুয়ার জেলা জুড়ে একুশ শতকের শুরুতেই নাশকতা চালিয়েছিল কেএলও৷ ভারত সংলগ্ন দক্ষিণ ভুটানের কিছু এলাকায় ২০০০ সালের পর থেকে প্রবল শক্তিশালী সংগঠন ছড়িয়েছিল জীবন সিংহ৷ তারই হুকুমে ২০০২ সালের ১৭ আগস্ট জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি সিপিএম কার্যালয়ে জঙ্গি হামলা হয়৷ মৃত্যু হয় ৫ জনের৷ সেই ঘটনার পরেই ভুটান সরকারের সাহায্যে চলেছিল বিশাল জঙ্গি দমন অভিযান-অপারেশন অল ক্লিয়ার৷ ভুটানের মাটিতে কেএলও প্রধানকে সাহায্য করে অসমের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফা৷ এখন আলফা (স্বাধীনতা) গোষ্ঠীর সুপ্রিম কমান্ডার পরেশ বড়ুয়ার মতোই কেএলও চিফ জীবন অধরা৷

গোয়েন্দা বিভাগের রিপোর্ট বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে শিবির তৈরি করেছে কেএলও৷ পার্বত্য চট্টগ্রাম লাগোয়া ত্রিপুরা ও মায়ানমার৷ দুর্গম এলাকা৷ এখান থেকেই আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারত-বাংলাদেশ-মায়ানমারের মধ্যে অবাধ যাতায়াত করে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের নেতৃত্ব৷ এদেরই অন্যতম জীবন সিংহ৷ সম্প্রতি নেপাল থেকে অসুস্থ হয়ে শিলিগুড়িতে এসে মৃত্যু হয় জীবন সিংহের স্ত্রী ভারতীর৷