নেপিদ: অভ্যুত্থানের এক সপ্তাহ পার হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে দেশবাসীর সামনে বিবৃতি দিয়ে সামরিক সরকারের দাবি ছিল নির্বাচন ভুয়ো, তাই সরকার ফেলা হলো। আর রাতেই মায়ানমারের প্রধান নেত্রী সু কি’র রাজনৈতিক দফতরের দখল নিল সেনা।

গভীর রাতে বর্মী সেনা ঢুকে পড়ে নির্বাচিত সরকারের দল এনএলডি কার্যালয়ে। এদিকে নেত্রী সু কি অভ্যুত্থানের পর থেকেই গৃহবন্দি। নিখোঁজ প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট সহ নেতা মন্ত্রীরা।

বিবিসি জানাচ্ছে, মায়ানমারে সেনা সরকারের প্রধান মিং অন লাইংয়ের নির্দেশেই গৃহবন্দি সু কি’র রাজনৈতিক কার্যালয়ের দখল নিয়েছে বর্মী সেনা। রিপোর্টে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে সেনাবাহিনী জোর করে এনএলডির প্রধান কার্যালয়ে প্রবেশ করে ভাংচুর চালায়। তবে সেনা অভিযানের সময় এনএলডির নেতা বা কর্মীরা কেউ কার্যালয়ে ছিলেন না।

যদিও সেনা সরকার জানায়, দ্রুত নির্বাচন ঘোষণা করা হবে। সামরিক অভ্যুত্থানের পর মায়ানমারে তীব্র হয়েছে গণবিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীরা সু কি ও তাঁর দলের নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছেন। বিক্ষোভের আকার দেখে সেনা সরকারের নির্দেশ, একসাথে পাঁচজনের চলাচল করা যাবে না।

বিবিসি জানাচ্ছে, মঙ্গলবার দেশটির রাজধানী নেপিদ জুড়ে গণতন্ত্র ফেরানোর দাবিতে গণবিক্ষোভে ফাঁকা গুলি, রাবার বুলেট ও জলকামান ব্যবহার করেছে পুলিশ। একাধিক স্থানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে আহত ও রক্তাক্ত বিক্ষোভকারীদের ভিডিও দেখা গেছে।

mayanmar police

এক নজরে মায়ানমারের সেনা শাসন:

মায়ানমারে ১৯৬২ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সামরিক সরকার শাসন চলেছিল। রক্তাক্ত সেনা শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ে নেমে ১৯৮৯ থেকে ২০১০ পর্যন্ত গৃহবন্দি ছিলেন সু কি। ২০১৫ সালে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে সু কি ক্ষমতায় আসেন। ২০২০ সালের নভেম্বরে জাতীয় নির্বাচনে তাঁর দল বিপুল জয় পায়। এর পরেই দেশের ক্ষমতা জবর দখল করে সেনা।

মায়ানমারে নির্বাচিত সরকারের সর্বমময় নেত্রী থাকার সময় সু কি নীরব ছিলেন রোহিঙ্গা নির্যাতন বিষয়ে। সেনার ভূমিকাকে সমর্থন করেছিলেন। এই কারণে, আন্তর্জাতিক মহলে ধীকৃত হন নোবেল জয়ী নেত্রী। মনে করা হচ্ছিল তিনি বর্মী সেনার হাতের পুতুল হয়েছেন। অবশেষে গত সোমবার থেকে তিনি গৃহবন্দি। ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনি।

বিবিসি জানাচ্ছে, মার্শাল ল উপেক্ষা করেই রাজপথে নেমে এসেছেন অগনিত মানুষ। বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গন থেকে গ্রামাঞ্চলে চলছে সেনা সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.