স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিধানসভায় ঢুকতে না পারায় রক্তাক্ত হয়েছে তাঁর হৃদয়। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে এমনই মন্তব্য করলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়৷ তিনি বললেন, “ইতিহাসে কোনওদিন এমন হয়নি, এই ঘটনায় আমি অবাক হয়েছি।”

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৩২ মিনিটে বিধানসভার তিন নম্বর গেটে এসে থামল রাজ্যপালের কনভয়। কোনও প্রটোকল নয়, কনভেনশন অর্থাৎ প্রথা অনুযায়ী তিন নম্বর প্রবেশদ্বার রাজ্যপালের জন্যই নির্দিষ্ট থাকে।‌ এর আগে সংবিধান দিবসের দিন তিন নম্বর গেট দিয়েই বিধানসভা প্রবেশ করেছিলেন তিনি। এদিন তিন নম্বর প্রবেশ দ্বার বন্ধ ছিল। গেটের সামনে প্রায় ১৮ মিনিট অপেক্ষা করার পর অগত্যা সাধারণ দরজা দিয়েই পায়ে হেঁটে ভিতরে ঢুকতে হয় তাঁকে। ভবনে এদিন কেউ কোত্থাও ছিল না৷

গোটা ঘটনায় ক্ষুদ্ধ রাজ্যপাল বিধানসভার বাইরে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “অধিবেশন স্থগিত মানে বিধানসভা বন্ধ নয়। স্পিকার বলেছিলেন আমাকে স্বাগত জানাবেন। সেটা জানতে পেরেই আমি সম্মতি জানিয়েছিলাম চিঠি দিয়ে। কী এমন ঘটল যে স্পিকার অনুপস্থিত থাকলেন? অপমানিত বোধ করছি। গণতন্ত্র এভাবে চলতে পারে না। আজকের ঘটনার লজ্জা আমার নয়, লজ্জা গোটা দেশের, এ লজ্জা গণতন্ত্রের। ” এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বিধানসভার ব্যাপারটা রাজ্যপালের দেখার বিষয় নয়। ওখানে স্পিকারই শেষ কথা।”

রাজ্যপালের কথায়, ” গতকাল রাজভবনের তরফে আমার আশার কথা জানিয়ে বিধানসভা সচিবালয় চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এখানকার পাঠাগার খুবই সমৃদ্ধ। সেসব দেখার ইচ্ছা ছিল। অধ্যক্ষের সম্মতি নিয়ে বিধানসভার সচিব আমার স্পেশাল সেক্রেটারিকে ফোন করে জানান যে আজ অধ্যক্ষ আমার সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে সারবেন। পাশাপাশি আমার স্ত্রীকেও তিনি বিধানসভা আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।” রাজ্যপাল আরও বলেন, “কিন্তু দেড় ঘণ্টা পরেই ঠিক পরিস্থিতি বদলে যায়। বিধানসভার তরফের সচিব রাজ্যপালের স্পেশাল সেক্রেটারিকে ফোন করে জানিয়ে দেন রাজ্য বিধানসভা চলছে না ফলে অধ্যক্ষ উপস্থিত থাকতে পারবেন না। রাজ্যপালের প্রশ্ন, অধ্যক্ষের প্রথম উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমি আপ্লুত হয়েছিলাম। সেটাই গণতন্ত্রের পক্ষে কাম্য। কিন্তু হঠাৎ করে কেন ফের চিত্র পাল্টে গেল তা বুঝলাম না। ”

এদিন রাজ্যপালের ভূমিকায় অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছে তৃণমূল৷ পার্থ চট্টোপাধ্যায় জগদীপ ধনকড়ের বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ বলেন, “উনি ঘুরুন। আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু সরকারের পয়সা নষ্ট করবেন না।” শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, “কোথাও কিছু হলেই চলে যাচ্ছেন, দাঁড়িয়ে থাকছেন আর ছবি তুলছেন। মানুষের মনে তো প্রশ্ন আসতেই পারে, উনি কি ছবি তোলার জন্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন?”