পাটনা: বিহারের এনসেফেলাইটিস ইস্যুতে গাফিলতির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন ও রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মঙ্গল পাণ্ডের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিলেন মুজফফরপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা সিজেএম সুর্যকান্ত তিওয়ারি৷

১২৯ জন শিশু মৃত্যুর ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগ দায়ের হয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে৷ এর মধ্যে ১০৯ জন মারা গিয়েছে শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে৷ বাকি ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে কেজরিওয়াল হাসপাতালে৷ রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত মেডিক্যাল অফিসার, শিশু বিশেষজ্ঞ ও নার্স পাঠানো হয়েছে মুজফফরপুরে৷

শুধু মুজফফরপুরের সিজেএম-ই নন, বিহার সরকার ভর্ৎসনার মুখে পড়েছে সুপ্রিম কোর্টেরও৷ কি কারণে এত শিশুর মৃত্যু, এক সপ্তাহের মধ্যে তার রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট৷ এই রিপোর্ট জমা দিতে হবে কেন্দ্রকেও৷

আরও পড়ুন : ১৮ জন কাউন্সিলরকে নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন আরও এক তৃণমূল বিধায়ক

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিআর গাভাইয়ের বেঞ্চ এদিন নীতিশ কুমার সরকারকে একটি এফিডেভিট দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে৷ যেখানে বিস্তারিত রিপোর্ট দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে৷ সরকারি হাসপাতালগুলির পরিকাঠামো, শিশু চিকিৎসার ব্যবস্থা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তথ্য দেওয়ার কথা বলা হয়েছে৷

এদিন সুপ্রিম কোর্ট নিজের পর্যবেক্ষণে জানায়, এভাবে চলতে পারে না৷ একের পর এক শিশু মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না৷ সরকারকে উত্তর দিতে হবে, সরকার উত্তর দিতে বাধ্য৷ এই সওয়াল জবাব চলাকালীন এক আইনজীবী আদালতে জানান, উত্তর প্রদেশেও একই ভাবে মৃত্যুর হার বাড়ছে৷ এই বিষয়েও নজর দেয় শীর্ষ আদালত৷ যোগী সরকারকেও রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর৷ দুই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে রিপোর্ট জমা পড়াতে হবে ১০ দিনের মধ্যে, কারণ ১০ দিন পরে ফের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে৷

আরও পড়ুন : আর জোট নয়, এবার একা লড়ার বার্তা মায়াবতীর

উল্লেখ্য বুধবার শ্রীকৃষ্ণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে যান বিহারের মুখ্যমন্ত্রী৷ বিহার সরকার শুরু থেকেই এই রোগকে এনসেফেলাইটিস বলে মানতে নারাজ৷ বিহারের স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের মতে রক্তে শর্করা অতিরিক্ত পরিমাণে কমে যাওয়ার দরুনই এই মৃত্যু৷ ভিলেন হিসাবে উঠে আসছে লিচু ফলের নাম৷ অপুষ্টির শিকার শিশুরা খালি পেটে লিচু খেয়ে নিয়েছে৷

এদিকে, হাসপাতালে আসার পরই বাবা-মায়েদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ও উপ মুখ্যমন্ত্রী৷ ওঠে ‘গো ব্যাক’ স্লোগান৷ দু’সপ্তাহ বাদে নীতীশের আসার সময় হল এমন কথাও উড়ে আসে৷ রোগীর পরিজনদের বিক্ষোভ কোনওরকমে নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ৷