ছবি সৌজন্য: নীলাঞ্জনা রায় এবং তিস্তা দাস৷

বিশ্বজিৎ ঘোষ, কলকাতা: বিভিন্ন ধরনের পরব উপলক্ষ্যে কম হয় না ভূরিভোজের আয়োজন৷ আর, দুর্গাপুজো যেহেতু বাঙালির সেরা উৎসব, সেই কারণে, বিজয়া দশমী উপলক্ষ্যেও সামর্থ্য অনুযায়ী জারি থাকে পেটপুজোর হরেক আয়োজন৷

কিন্তু, উৎসব উপলক্ষ্যে অন্তত একদিন কেন রাস্তার সারমেয়দের পাতে পরবে না ভালোমন্দ খাবার? আর, তাই, দুর্গাপুজো তথা বিজয়া দশমী উপলক্ষ্যে এক হাজার রাস্তার সারমেয়কে এ বার মাংস-ভাত খাওয়ানো হচ্ছে৷ আগামী রবিবার, ১৬ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে বারাসতের হাটখোলায় রাস্তার সারমেয়দের এ ভাবে উৎসবের আনন্দে মাতিয়ে রাখা হবে৷

আরও পড়ুন: ত্রিপুরার যৌনকর্মীদের জন্য স্পনসর চাইছে বাংলার দুর্বার

উত্তর ২৪ পরগণার জেলা সদর বারাসতের বিভিন্ন রাস্তায় ওই দিন এক হাজার সারমেয়কে মাংস-ভাত খাওয়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বহুজাতিক এক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার সল্টলেক অফিসের কর্মী নীলাঞ্জনা রায়৷ তাঁর এমন উদ্যোগে শামিল হয়েছেন অভিনেত্রী তথা ট্রান্সজেন্ডার কনসালটেন্ট তিস্তা দাস, আত্রেয়ী চক্রবর্তী, আইনজীবী সোহম বসু এবং এক ছাত্র, সৈকত দে৷image-t-01

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর দুর্নাম হচ্ছে! তৃণমূল-সংগঠনের নিশানায় স্বাস্থ্য দফতর

তবে, চিকেন নয়৷ রাস্তার এক হাজার সারমেয়কে খাওয়ানো হবে মাটন৷ তার জন্য অবশ্য খরচও কম নয়৷ যে কারণে, পশুপ্রেমী, এমন বিভিন্ন মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তার আর্জিও রাখা হয়েছিল৷ কিন্তু, তাঁদের প্রায় সকলেই মুখ ফিরিয়ে নিলেও, শেষ পর্যন্ত অবশ্য আর্থিক সহায়তা করেছেন মুনমুন সিনহা, সাথীস্মিতা ধর এবং পৌষালী চক্রবর্তী৷

আরও পড়ুন: Auto-Crazy যাত্রীর জন্যই চালক জারি রাখে Autocracy

পুণের বাসিন্দা মুনমুন সিনহা বর্তমানে আমেরিকায় বহুজাতিক এক সংস্থার কর্মী৷ অন্যদিকে, মিউনিখে ডক্টরেট করেছেন সাথীস্মিতা ধর৷ আর, পৌষালী চক্রবর্তী বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এক জন কর্মী৷ নীলাঞ্জনা রায়ের কথায়, ‘‘পুজো উপলক্ষ্যে অনেকেই পার্টি দেন৷ ভালোমন্দ খাবারের আয়োজন করা হয়৷ কিন্তু, রাস্তার কুকুরদেরও যাতে পুজোর পরে ভালোমন্দ খাওয়ানো যায়, তার জন্যই আমাদের এই আয়োজন৷’’image-n-01

আরও পড়ুন: কপাল পোড়াদের জীবনে এক বারই আসে প্রেম!

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘প্রতিটি কুকুরের জন্য একশো গ্রাম চালের সঙ্গে মাটনের ছাঁট মিশিয়ে রান্না করবেন অলোক দাস৷ সলিড মাটন খাওয়ানোর জন্য সামর্থ্য নেই আমাদের৷ তাই, মাটনের ছাঁটের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷’’ আর, তিস্তা দাসের কথায়, ‘‘এই বিষয়টি অভিনব, তা বলব না৷ বরং, বলব, রাস্তার কুকুরদের এ ভাবে খাওয়ানোর বিষয়টি প্রয়োজনীয়৷’’

আরও পড়ুন: ভালোবাসার অধিকার প্রাপ্তির জন্য আর্জি প্রধানমন্ত্রীকে

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘রাস্তার কুকুরদের যেভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবহেলা, অবজ্ঞার শিকার হতে হয়, সেই বিষয়টি অনুভব করি৷ কারণ, বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমাকেও অবহেলা, অবজ্ঞার শিকার হতে হয়৷ রাস্তার কুকুরদের এ ভাবে মাংস-ভাত খাওয়ানোর বিষয়টি আমার কাছে বেঁচে থাকার রসদ জোগায়৷ তার উপর, মনের দিক থেকেও এই বিষয়টি সুন্দর৷ তাই, এই ধরনের কাজ আরও হওয়া উচিত৷’’ শুধুমাত্র তাই নয়৷image-t-03

আরও পড়ুন: নিখোঁজ ছেলের সন্ধানে আইনের বদলে ভরসা ফেসবুক

তিস্তা দাস বলেন, ‘‘রাস্তার কুকুরদের বিভিন্ন সময় মানুষের পরিকল্পিত অসভ্যতার শিকারও হতে হয়৷’’ অথচ, রাস্তার কোনও সারমেয় অথবা মার্জারকে যদি কেউ খাবার দেন, তা হলে, আইন অনুযায়ী তাঁকে কিন্তু বাধা দেওয়া যায় না৷ নীলাঞ্জনা রায়ের কথায়, ‘‘আইপিসি-র ৪২৯ ধারা অনুযায়ী রাস্তার কুকুর, বিড়ালকে খাওয়ানোর সময় কেউ বাধা দিতে পারেন না৷ অথচ, শুরুর দিকে আমাকে বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে৷’’

আরও পড়ুন: ভালো বাসা-র তুলনায় ইলিশ যে বেশি ভালোবাসার!

নিজের খরচে বছর দশেক ধরে রাস্তার কুকুরদের নিয়মিত খাওয়াচ্ছেন বহুজাতিক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কলকাতার এই কর্মী৷ তিনি বলেন, ‘‘পুজোর পরে ভালোমন্দ খাবারের ব্যবস্থা করতে এক হাজার রাস্তার কুকুরের জন্য এ ভাবে মাংস-ভাতের আয়োজন এই প্রথম৷’’ শুধুমাত্র তাই নয়৷ নিজের খরচে রাস্তার সারমেয়দের রোজ খাওয়ানোর পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা এমনকী নির্বীজনের কাজও তিনি করেন বলে জানিয়েছেন৷image-t-n-02

আরও পড়ুন: প্রথার নামে প্রকাশ্যে গণধর্ষণ যেখানে এখন এক খেলা!

নীলাঞ্জনা রায়ের কথায়, ‘‘ইকোসিস্টেম বজায় রাখার জন্য যেমন রাস্তার কুকুর এবং বিড়ালদেরও বাঁচিয়ে রাখার কাজটি অত্যন্ত জরুরি৷ তেমনই, মানুষ যাতে সুস্থ থাকতে পারেন, তার জন্যও রাস্তার কুকুর, বিড়ালদের চিকিৎসা করাও প্রয়োজনীয়৷ কেননা, রাস্তার কোনও কুকুর অথবা বিড়াল যদি বমিও করে, তা হলে, সেই বমির উপর বসা কোনও মাছি-মশা তো রাস্তার পাশের কোনও দোকানের খাবারে গিয়েও বসতে পারে৷ তার জন্য জীবাণু সংক্রমণের আশঙ্কাও থাকে৷’’

আরও পড়ুন: সারদাকাণ্ডে এক সাংবাদিকের আত্মহত্যা এবং মিডিয়া

অথচ, রাস্তার সারমেয়দের নির্বীজন এবং চিকিৎসার বিষয়টি পুরসভা অথবা কর্পোরেশনের অধীনে থাকা সত্ত্বেও, বিভিন্ন সময় প্রশাসনের তরফে সেই দায়িত্ব পালন করা হয় না জানিয়ে নীলাঞ্জনা রায় বলেন, ‘‘রাস্তার কুকুর, বিড়াল আছে বলেও ইঁদুরের দাপট থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে রক্ষা পাওয়া যায়৷ না হলে, ইঁদুরের থেকে প্লেগ ছড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা থেকে যায়৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘আমার জন্মদিনেও রাস্তার কুকুরদের জন্য আমি ভালোমন্দ খাবারের ব্যবস্থা করি৷’’image-t-02

ছবি সৌজন্য: নীলাঞ্জনা রায় এবং তিস্তা দাস৷

_____________________________________________________________________

আরও পড়ুন:
(০১) সন্তানের পরিচয় জানাতে প্রথমেই আসুক মায়ের নাম!
(০২) শিক্ষক হওয়ার জন্য চাকরি ছাড়তে হচ্ছে চিকিৎসকদের
(০৩) সিলেবাসে চাই ওষুধবিজ্ঞান, পাঠে মগ্ন স্কুল-পড়ুয়ারা
(০৪) এলিয়েনের কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইবে লুপ্তপ্রায় মানুষ!
(০৫) দলবদলের সঙ্গেই বাতিল করতে হবে জনপ্রতিনিধি-পদ
(০৬) দাভোলকর-পথে কুসংস্কারের ক্রম মুক্তি হবে বাংলায়!
(০৭) ফোঁটা পেল বোনদের ভুলে না যাওয়া সারমেয়-ভাই
(০৮) কলকাতায় রাস্তার সারমেয় খুনে চাপে পড়ে তদন্তে পুলিশ
(০৯) মানুষের কাছে ধর্ষণের শিকার রাস্তার প্রসূতি-সারমেয়
(১০) মানুষের খাদ্য হিসেবে নিখোঁজ হচ্ছে রাস্তার সারমেয়রা!

_____________________________________________________________________