সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: ঝাঁঝের পরিমাণ বৃদ্ধির জন্য সর্ষের তেলে মেশানো হচ্ছে অ্যাসিড! অভিযোগ, শহরের বুকে দাঁড়িয়েই মানবশরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর এই ঘটনার পিছনে রয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীর দল৷

কলকাতার বড় পাইকারি বাজার, বড়বাজার চত্বরের পোস্তা। অভিযোগ, সেখানেই বছরের পর বছর ধরে একইভাবে চলছে এই কুকর্ম। অভিযোগ, পূর্বতন এবং বর্তমান রাজ্য সরকার এই ঘটনা সম্পর্কে অবগত রয়েছে৷ অথচ, সমস্যার সমাধান হচ্ছে না৷ কারণ, মর্জি মতো পুলিশ দিয়ে ধরপাকড় চালানো হয়। অভিযোগ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের বদলে তাঁদের কর্মীদের পাঠানো হচ্ছে সংশোধনাগারে৷

পোস্তা ব্যবসায়ী সমিতির কার্যকরী সমিতির সম্পাদক চন্দন চক্রবর্তী বলেন, “আমারও তেলের ব্যবসা ছিল। কিন্তু কোনোও দিন ওই কাজ করিনি। কিন্তু দিনের পর দিন চোখের সামনে যা ঘটছে তা মেনে নেওয়া যায় না। মানুষের জীবন নিয়ে খেলা হচ্ছে। ডিসি এনফোর্সমেন্ট এসে দেখে গিয়েছেন। আশা করছি কিছু একটা হবে।” একইসঙ্গে তিনি বলেন, “তেলের ব্র্যান্ডের ভিতরেই থাকছে ভেজাল। আসল যে খাঁটি সর্ষের তেল হয় তার মধ্যে ৪০ শতাংশ সর্ষে থাকে, ৬০ শতাংশ থাকে রাইস অয়েল। এই রাইস অয়েল আসে উত্তরপ্রদেশ, কানপুর থেকে। এ বার এখানে গঙ্গার পারে সর্ষে থেকে তৈরি তেল হচ্ছে। এই দুটো একসঙ্গে মেশানো হচ্ছে কলকাতায় এসে।”

চন্দন চক্রবর্তী বলেন, “এর পরেই ভেজালের কাজ শুরু হচ্ছে। যারা ব্যবসাটা ভদ্রভাবে করেন তাঁরা ওই রাইস ওয়েল এবং সর্ষে পরিমাণ মতো মিশিয়ে খাঁটি সর্ষের তেল বানাচ্ছেন যার ঝাঁঝ এবং কোয়ালিটি নিয়ে সন্দেহ নেই।” তাঁর কথায়, “বাকি সব কম সর্ষের সঙ্গে বেশি অ্যাসিড মিশিয়ে ঝাঁঝ তৈরি করে ভেজাল তেল বিক্রি করছে। অ্যাসিড মানুষের শরীরে পৌঁছচ্ছে। এই অ্যাসিড শরীরকে পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দেবে। দেরি হয়েছে তবু এর বিহিত প্রয়োজন রয়েছে।” সূত্রের খবর, বছরে একবার তেল টেস্ট করতে আসেন একজন বিশেষজ্ঞ। অভিযোগ তাঁরা প্রত্যেকেই টাকার বদলে রফা করছেন।

এই বিষয়ে টাস্ক ফোর্সের সদস্য কমল দে বলেন, “আমাদের কাছে ইনফরমেশন অনেক আগেই ছিল। তাই এনফোর্সমেন্ট ডিসিকে নিয়ে ওখানে হাজির হয়েছিলাম। আবার আগামী সপ্তাহে একটা প্ল্যান আছে আমাদের। দেখা যাক কী করা যায়।”

এই প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “এই দায়িত্ব খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের। তা ছাড়া এটা ব্যবসার ব্যপার। আমার দফতর দেখে না।” খাদ্য পক্রিয়াকরণ মন্ত্রী আবদুর রেজ্জাক মোল্লার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এটা আমার দায়িত্ব নয়।” বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে, তা হলে দায়িত্ব কার?