ফাইল ছবি৷

রামপুর: বিতর্ক ও আজম খান প্রায় সমার্থক হয়ে গিয়েছে৷ মুখ খুললেই সেই মন্তব্য তৈরি করে বিতর্ক৷ এবারও তার ব্যতিক্রম হল না৷

লোকসভা ভোটের আগে রামপুরে সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল৷ মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানো হয়৷ নির্বাচনের দিন তাদের ভোট পর্যন্ত দিতে দেওয়া হয়নি৷ সবকিছু হয়েছে পুলিশ ও প্রশাসনের মদতে৷ এমনই বিস্ফোরক সব অভিযোগ তুললেন রামপুরের সদ্য নির্বাচিত সপা সাংসদ আজম খান৷

বুধবার সমাজবাদী পার্টির বিতর্কিত সাংসদ জানান, সরকার ও পুলিশ শুরু থেকেই রামপুরে ভয়ের বাতাবরণ তৈরি করে রেখেছিল৷ টানাটান উত্তেজনার মধ্যে ভোট হয় এখানে৷ অনেক মানুষকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি৷ একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের বাড়িতে ঢুকে পুলিশ অত্যাচার চালায়৷ বাড়ির সদস্যদের পেটানো হয়৷ মহিলাদেরও রেয়াত করা হয়নি৷ আজম খান সম্প্রদায়ের নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর মন্তব্যে পরিস্কার তিনি কাদের কথা বলছেন৷

এখানেই থেমে থাকেননি আজম খান৷ তাঁর আরও সংযোজন, ভোটের পাঁচদিন আগে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের মানুষদের দোকানে ভাঙচুর চালানো হয়৷ উর্দু গেটের কাছে যতগুলি দোকান ছিল সবকটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়৷ মহিলা ও শিশুরা তাদের কাছে আকুতি-মিনতি করে৷ জানায়, সামনেই ইদ৷ দোকান চলে গেলে খাব কী? কিন্তু কোনও কথা না শুনে নিষ্ঠুর মানুষগুলি দোকান ভেঙে শ’য়ে শ’য়ে মানুষকে বেকারের মুখে ঠেলে দেয়৷ ভবিষ্যতে আরও এমন কিছু দেখতে পাব৷

উত্তরপ্রদেশের রামপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হন আজম খান৷ বিপরীতে ছিলেন বিজেপির জয়া প্রদা৷ একসময় জয়া প্রদা ছিলেন আজম খানের সহকর্মী৷ কিন্তু দলবিরোধী কাজের জেরে সপা থেকে বহিস্কারের পর জয়া আসেন বিজেপিতে৷ আজম খানের বিরুদ্ধে প্রার্থী করা হয় তাঁকে৷ প্রচার চলাকালীন আজম খান বারবার জয়া প্রদাকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোড়ন ফেলে দেন৷ প্ররোচনামূলক মন্তব্য করার জন্য সপা প্রার্থীকে দু’বার কমিশনের শাস্তি মুখে পড়তে হয়৷

সেই জয়া প্রদাকে হারিয়ে সাংসদ হন আজম খান৷ তারপর সোমবার বিধানসভার স্পিকার হৃদয় নারায়ণ দীক্ষিতের কাছে বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন৷ যদিও এখন তিনি ফের বিধায়ক পদে ফিরে যাওয়ার চিন্তা করছেন৷ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের ১১টি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন৷ সেই নির্বাচনে লড়াই করার ইঙ্গিত তিনি দেন৷