স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: লোকসভা ভোটের পর থেকে বাঁকুড়া জেলা জুড়ে একের পর এক জায়গায় ঘাস ফুল ছেড়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন মানুষ। এই ঘটনায় যথেষ্ট উজ্জীবিত বিজেপি নেতা কর্মীরা।

রবিবার দলের সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ে সোনামুখী ও পাত্রসায়র এলাকার শতাধিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিলেন। এদিন এই দুই ব্লক এলাকার দলত্যাগী তৃণমূল কর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের নেতা শেখ গোলাম জারজিস৷

এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়ে শেখ রহমত আলি বলেন, ‘শৃঙ্খলাহীন’ ও ‘করে খাওয়ার দল’ তৃণমূল। মারপিট আর খুন খারাপির সঙ্গে যুক্ত লোকেরাই তৃণমূলের নেতা থেকে পদাধিকারী হবেন। বিজেপির নীতি আদর্শ ঐ দলের চেয়ে অনেক ভালো তাই এই দলে যোগ দিলাম।

ধানসিমলা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান সহ ১১৫ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন, এমনই দাবি বিজেপি সংখ্যালঘু সেলের নেতার৷ তিনি বলেন, বিজেপি ‘সাম্প্রদায়িক’ নয় বুঝতে পেরেই আমাদের সাথে ওরা যোগ দিলেন। দেশের বিভিন্ন অংশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্যই নরেন্দ্র মোদী দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এমনকি বিশ্বের বেশ কিছু মুসলিম রাষ্ট্র নরেন্দ্র মোদিকে পুরস্কৃত করেছেন বলে তিনি দাবী করেন।

একই সঙ্গে তৃণমূলের বিজেপিকে ‘সাম্প্রদায়িক’ দল বলায় তার সমালোচনা করে বলেন, ঐ দল তাদের জন্মের শুরুর দিনগুলিতে বিজেপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করেই ভোটের লড়াই করেছে।

অন্যদিকে, ইন্দাসের শাশপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার অশ্বিনপুর ফুটবল মাঠে এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ১৩০ জন তৃণমূল কর্মী বিজেপিতে যোগ দিলেন। এদিন বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি স্বপন ঘোষ এই কর্মীদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন।

এদিন তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুকুমার সাউ মানুষ বলেন, ঐ দলে থেকে উন্নয়নের কাজ করা সম্ভব নয়। মানুষের জন্য কাজ করতে হলে তাদের কাছ থেকে টাকা নিতে হবে। যা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে আসা।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পক্ষে শেখ মোজাফফর হোসেন, সৈয়দ ইউসুফরা বলেন, তৃণমূল এতোদিন আমাদের বিজেপি সম্পর্কে ক্রমাগত ভুল বুঝিয়ে গেছে। আমরা সেই ভুল ধরতে পেরেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলাম। একই সঙ্গে তাদের সম্প্রদায়ের মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়ে জিতিয়ে এনেছেন। সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে বিজেপি অনেক কাজ করেছে ও আগামী দিনে করবে বলেও তাদের দাবি।

বিজেপির বিষ্ণুপুর জেলা সাংগঠনিক সভাপতি স্বপন ঘোষ মানুষের বিশ্বাসযোগ্যতা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হারিয়েছেন দাবি করে বলেন, সাংবিধানিক অধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ওনার ‘বদলা নয় বদল চাই’য়ে মানুষ বিশ্বাস করে ওনাকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন। এখন বদল নয় ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বদলা বুঝে নিচ্ছেন। মানুষ বুঝে গেছে এই সরকার থাকলে বাংলায় উন্নয়ন সম্ভব নয়, পাশাপাশি গণতান্ত্রিক পরিবেশও ফিরবে না। তাই সবাই বিজেপির পতাকা তলে জড়ো হচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।