স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: এ ছবি দেশের বিবেককে চেনায়৷ এ ছবি চেনায় রাজ্য়ের আত্মাকে৷ মধ্য়বিত্ত ভারত আজও ধর্মের কাঙালিপনায় বিশ্বাসী নয়, এ ছবি সেকথা বলে৷ মালদহের চাঁচোল রাজবাড়ির মা উমাকে তাই এখানে বিদায় দেন মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষরা৷ তাঁদের দেখানো লণ্ঠনের আলোয় কৈলাসে ফেরেন সপরিবারে মা দুর্গা৷

এই উপলক্ষে মরা মহানন্দার ঘাটে হাজির হয় হাজার মুসলিম পরিবার। এটি প্রায় সাড়ে ৩৫০ বছরের পুরনো পুরনো প্রথা। যখন গোটা দেশ জুড়ে কিছু অসাধু মানুষ জাতি ধর্ম নিয়ে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। ঠিক তখনই সম্প্রীতির এই দুর্লভ ছবির দেখাও পাওয়া যায় চাঁচলের রাজবাড়ির উমা বির্সজনে। চাঁচল পাহাড়পুরের চন্ডী পুজো আগে চাঁচোল বাসীর কাছে রাজবাড়ির পুজো হিসেবে পরিচিত।

দেবীর এখানে চার হাত। রাজবাড়ীর এই দেবী দুর্গা চন্ডী রূপে পূজিতা হন। যদিও বর্তমানে রাজা নেই, নেই তার রাজত্ব। কিন্তু রয়ে গেছে রাজ আমলের রীতি। আর সেই রীতি মেনে দশমীর দিন গোধূলি বেলায় মন্দিরের সামনে ঠিক ২০০ মিটার দূরে মরা মহানন্দায় বিসর্জন দেওয়া হয় প্রতিমাকে। আর নদীর ওই পারে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন লণ্ঠনের আলো জ্বালিয়ে মাকে এ বছরের মতো বিদায় জানান।

বিদ্যানন্দপুরের বাসিন্দা আয়েশা বিবি বলেন, মা চন্ডী হিন্দুদের দেবী হলেও তাঁরা তাঁকে ভক্তি শ্রদ্ধা করেন। দুর্গাপুজোয় তারাও সামিল হন। পাহাড়পুরের দেবী চন্ডী সর্বক্ষণ তাদের সুস্থ রাখেন, বিপদ থেকে তাদের রক্ষা করেন। দেবী বিসর্জনের সময় তাই গ্রামের প্রতিটি বাসিন্দা নদীর পাড়ে লণ্ঠন জ্বালিয়ে দেবীকে আলো দেখান।

এই রীতি কয়েক পুরুষ ধরে চলে আসছে। গ্রামে এখন প্রত্যেকের বাড়িতে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। লণ্ঠনের ব্যবহার নেই বললেই চলে। পুজো এলে তারা পুরনো লন্ঠন পরিষ্কার করে রাখেন। দশমীর দিন গোধূলীবেলায় বিসর্জনের সময় সেই লণ্ঠন জ্বালিয়ে দেবীকে আলো দেখিয়ে বিদায় জানান।

চাঁচোল রাজবাড়ি পরিদর্শক পিনাকীজয় ভট্টাচার্য বলেন, রাজবাড়ীর দেবী প্রতিমা নিরঞ্জনের এই প্রথা ৩৫০ বছরের প্রাচীন। মরা মহানন্দার ওপারে রয়েছে বিদ্যানন্দপুর গ্রাম। ওই গ্রামে মূলত মুসলিম সম্প্রদায়ের বসবাস। দেবীর বিদায় বেলায় তারাই লণ্ঠনের আলো দেখান। তবে এলাকায় কথিত আছে, প্রায় ৩৫০ বছর আগে ওই গ্রামে মহামারীর প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। নবমীর রাত্রে ওই গ্রামে কোনও এক মুসলিম ব্যক্তি মা চন্ডীর স্বপ্নাদেশ পান।

দেবী স্বপ্নাদেশে তাকে নির্দেশ দেন, দশমী তিথির গোধূলি লগ্নে ওই গ্রামের মানুষজন যেন তাকে লণ্ঠনের আলো দেখায়। সেই স্বপ্নাদেশ মেনে সেবার বিদ্যানন্দপুর গ্রামের মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকেরা দশমীর দিন মায়ের বিদায় বেলায় লণ্ঠন জ্বালিয়ে তাকে আলো দেখান। এরপরই ওই গ্রাম থেকে মহামারী দূর হয়ে যায়। সেই থেকে আজও বিদ্যানন্দপুর মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা দেবীর বিসর্জনের সময় মরা মহানন্দা নদীর অপরপ্রান্তে জড়ো হয়ে লণ্ঠন জ্বালিয়ে আলো দেখান।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.