আলিগড় : ফের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা৷ মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও গীতা ও রামায়ণ পাঠ করায় রীতিমত মারধর খেতে হল দিলশার নামে এক ব্যক্তিকে৷ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ফের সংবাদ শিরোনামে উত্তরপ্রদেশের আলিগড়৷ পুলিশ জানাচ্ছে এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷

আলিগড়ে শাহ জামাল এলাকা৷ দীর্ঘদিন ওই এলাকাতেই বাস ৫৫ বছরের দিলশারের৷ নিত্য তাঁর বাড়িতে গীতা পাঠ হয়৷ চলে রামায়ণ পাঠ৷ ধর্মের বেড়াজাল তিনি মানেন না৷ কিন্তু সমাজের তথাকথিত ধর্মের রক্ষকরা সেই নীতি বোঝে না৷ সেই আবেগ মানে না৷ তাই মার খেতে হয় দিলশারের মত মানুষকে৷

পুলিশ জানাচ্ছে আলিগড়ের এই ঘটনায় দিলশারকে মারধর করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষই৷ কাজ থেকে ফিরে তখন বাড়ির দাওয়াতে বসে হিন্দু ধর্মীয় গ্রন্থ পড়ছিলেন দিলশার৷ তখনই হামলা চলে তাঁর ওপর৷ একটি কারখানায় নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কাজ করেন তিনি৷

আরও পড়ুন : মদের গুদামে বিধ্বংসী আগুন, পুড়ে নষ্ট ৪৫,০০০ ব্যারেল হুইস্কি

তাঁর অভিযোগ, সমীর ও জাকির নামে দুই ব্যক্তি আচমকা এসে তাঁকে মারধর শুরু করে৷ তাঁর কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয় রামচরিতমানস ও গীতার বই৷ ওই দুই ব্যক্তির সঙ্গে আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি৷

টাইমস অফ ইণ্ডিয়াকে দিলশার জানান, গত ৩৮ বছর ধরে হিন্দু ধর্মগ্রন্থ পড়ছেন তিনি৷ গর্ব বোধ করেন এগুলো পড়ে৷ কিন্তু সমাজ সেটা মেনে নেয়নি৷

ইতিমধ্যেই সমীর ও জাকিরের বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা সহ একাদিক ধারায় মামলা করা হয়৷ দিল্লি গেট পুলিশ স্টেশনে এই অভিযোগ দায়ের হয়েছে৷ তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৮, ৩২৩, ৪৫২, ৫০৪, ও ৫০৬ ধারায় মামলা করা হয়৷

পুলিশ সুপার (সদর) অভিষেক জানান, গোটা ঘটনার তদন্ত করে দেখা হচ্ছে৷ অভিযুক্তরা প্রত্যেকেই উপযুক্ত শাস্তি পাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি৷ আলিগড়ের সার্কেল অফিসার বিশাল পাণ্ডে বলেন দিলশারের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷ মামলা শুরু হয়েছে৷

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.