নয়াদিল্লি: সংখ্যালঘুদের উন্নয়নের জন্য যে এবার মোদী সরকার একগুচ্ছ পরিকল্পনা এনেছে একথা আগেই জানিয়েছিলেন সংখ্যালঘু উন্নয়ন মন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নকভি। বিশেষত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া সংখ্যালঘু পরিবারগুলি যাতে সবরকম সুবিধা পায়, তার বন্দোবস্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এবার বললেন, সরকারি পরীক্ষার জন্য নিখরচায় কোচিংও নিতে পারবেন মুসলিম পরিবাররে মেয়েরা।

বুধবার সেন্ট্রাল ওয়াকফ কাউন্সিলের মিটিং-য়ে গিয়ে তিনি বলেন, ইউপিএসসি, রাজ্য সরকারি পরীক্ষা ও ব্যাংকের পরীক্ষার জন্য ফ্রি-তে কোচিং নিতে পারবেন সংখ্যালঘু ছাত্রীরা। এই নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক ইনস্টিটিউটের সঙ্গে কথা বলেছে কেন্দ্র। চলতি বছরেই সেই কোচিং নেওয়া শুরু করতে পারবে ছাত্রীরা।

এদিন তিনি আরও জানিয়েছেন যে, দেশ জুড়ে ৫.৭৭ লক্ষ ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে। সেগুলিকে এবার জিও ট্যাগিং করে ডিজিটাইজড করবে সরকার। সেগুলিতে তৈরি করা হবে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল। বিশেষত যেসব অঞ্চলে সংখ্যালঘু পরিবারগুলি বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন, সেখানে ওয়াকফ সম্পত্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে পড়াশোনার সুযোগ করে দেবে সরকার। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেই কাজ হবে বলেও জানিয়েছেন নকভি।

প্রধানমন্ত্রী জন বিকাস কার্যক্রমের আওতায় ওই সব সম্পত্তিতে স্কুল, কলেজ, আইটিআই, হাসপাতাল, কমিউনিটি হল বানাতে ১০০ শতাংশ ফান্ডিং করবে মোদী সরকার। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত কাজের জন্য পাঁচজনের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আগেই নকভি জানিয়েছেন, আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীকে বিভিন্ন ধরনের স্কলারশিপ দেবে কেন্দ্রীয় সরকার। দেওয়া হবে প্রি-ম্যাট্রিক, পোস্ট-ম্যাট্রিক সহ একাধিক স্কলারশিপ। যে পাঁচ কোটি সংখ্যালঘু ছাত্রছাত্রীকে এই সুযোগ দেওয়া হবে, তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ ছাত্রী বলেও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

সংখ্যালঘু পরিবারের মেয়েদের পড়াশোনায় উৎসাহ যোগানোর জন্য ‘পড়ো-বাড়ো’ নামে নতুন ক্যাম্পেন করা হবে। বিভিন্ন জায়গায় আর্থ-সামাজিক সমস্যার জন্য অনেক ক্ষেত্রে মেয়েদের স্কুলে পাঠানো হয় না। সেই পরিস্থিতি যাতে বন্ধ হয়, তার জন্যই মোদী সরকারের এই নতুন পরিকল্পনা। প্রথম পর্যায়ে দেশের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৬০টো জেলায় ক্যাম্পেন শুরু করা হবে।

যেসব সংখ্যালঘু ছাত্রী স্কুলছুট, তাদেরও ফিরিয়ে আনা হবে শিক্ষার মূল স্রোতে। স্কুলে নতুন করে ভর্তি না হলেও, তারা যাতে শিক্ষার সঙ্গে আবার যুক্ত হতে পারে, সেই ব্যবস্থাই করবে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের ‘ব্রিজ কোর্সে’র মাধ্যমে যুক্ত করা হবে।

মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্যও থাকছে বিশেষ ব্যবস্থা। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। হিন্দি, ইংরেজি, অঙ্ক, বিজ্ঞান, কম্পিউটার বিভিন্ন বিষয়ে ট্রেনিং দেওয়া হবে। যাতে মাদ্রাসাতে মেনস্ট্রিম পড়াশোনা করানো যায়। এইভাবেই আগামী পাঁচ বছর সংখ্যালঘুদের স্বার্থে বিভিন্ন পরিকল্পনা করছে মোদী সরকার।