পাটনা: বিহারের ২৭ বছরের মুসলিম তরুণী ইতিহাস তৈরী করল। তিনিই প্রথম মুসলিম তরুণী যিনি ৬৪তম বিহার পাবলিক সার্ভিস কমিশন (Bihar Public Service Commision) পাশ করে বিহার পুলিশের ডিএসপি হিসাবে নিযুক্ত হতে চলেছেন। ৪০ জন প্রার্থীর মধ্যে রাজিয়া সুলতানা (Rajia Sultana) বিহার পুলিশে (Bihar Police) ডিএসপি (DSP) পদে নির্বাচিত হয়েছেন।

ছোট থেকে একটাই স্বপ্ন তাড়া করে বেড়াতো রাজিয়াকে। সাত ভাইবোনের মধ্যে সবথেকে ছোট রাজিয়া ছোটবেলা থেকে স্বপ্ন দেখতো পুলিশ হওয়ার। বরাবর পড়াশোনায় ভালো ছিলেন রাজিয়া। প্রথমে তিনি বিপিএসই পরীক্ষা (BPSC exam) দিয়ে বিহার সরকারের ইলেকট্রিক ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে নিযুক্ত হন। কিন্তু পুলিশে যোগ দেওয়ার পরই রাজিয়া সুলতানার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।

রাজিয়া সুলতান, যিনি বিহারের গোপালগঞ্জ জেলার হাতুয়ার বাসিন্দা। বর্তমানে বিহার সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে রয়েছেন। গোপালগঞ্জের বাসিন্দা হলেও ঝাড়খণ্ডের বোকারো থেকে স্কুলের পড়াশোনা করেছেন। তার বাবা মোহাম্মদ আসলাম আনসারী বোকারো স্টিল প্ল্যানেটে স্টেনোগ্রাফার হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। ২০১৬ তে বাবা মারা যাওয়ার পর তার মা এখন বোকারোতেই থাকেন।

সাত ভাইবোনের মধ্যে রাজিয়া সবথেকে ছোট। বড় দিদিরা সকলেই বিবাহিত। ভাই এমবিএ করার পরে উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসির একটি বেসরকারী সংস্থায় কর্মরত আছেন। রাজিয়া বোকারো থেকে স্কুল শেষ করার পরে যোধপুরে চলে যান সেখান থেকে তিনি ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক সম্পন্ন করেন।

রাজিয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, শৈশব থেকেই তিনি পাবলিক সার্ভিস কমিশন পরীক্ষায় অংশ নিতে চেয়েছিলেন। ডিএসপির জন্য নির্বাচিত হয়ে যেন তার স্বপ্ন বাস্তব হয়েছে। ২০১৭ সালে বিহার সরকারের ইলেকট্রিক ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার পদে নিযুক্ত হন। রাজিয়া আরোও বলেন, পুলিশ অফিসারের দায়িত্ব পালন করতে আমি খুব উদগ্রীব। অনেক সময় দেখা যায় সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পায় না, বিশেষত মহিলারা। এমনকি লজ্জার কারণে তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপরাধের কথা বলতে লজ্জা পায়। সেইদিকে আমার বেশি নজর থাকবে। যাতে তারা সুবিশার পায় তা নিশ্চিত করব।

হিজাব বোরখা প্রসঙ্গে রাজিয়া বলেন, আমি সমর্থন করি তবে হিজাব বা বোরখার কারণে পড়াশোনা বন্ধ হতে পারে না। এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে হিজাব পড়তেই হবে। তবে আমরা যদি মনে করি যে আমরা কোনও কাজ করতে পারি তবে আল্লাহ আমাদের সব ধরণের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠার শক্তি দান করেন।

সম্প্রতি রাজিয়া করোনাকে জয় করেছে। তিনি সকলকে গুজব কান দিতে মানা করেন এবং টিকা নেওয়ার জন্যে আহ্বান করেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.