নয়াদিল্লি: মাদ্রাসা শিক্ষাকে যুগপোযোগী করে তুলতে হবে৷ মাদ্রাসাশিক্ষাকে যোগ করা হবে দেশের মূল ধারার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে৷ সিদ্ধান্ত মোদী সরকারের৷ কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের ইমামরা৷

মাদ্রাসা শিক্ষা আধুনিক নয়৷ ২০১৪ সালে প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই তাই মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ের কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী৷ মঙ্গলবাই সমখ্যালধু উন্নয়নমন্ত্রী মুক্তার আব্বাস নাকভি এবিষয়ে ট্যুইট করেন৷ সেকানে তিনি লেখেন, সমাজের উন্নয়নে মুললিমদের অবদান সুনিশ্চিৎ করতে মাদ্রাসা শিক্ষাকে দেশের মূল ধারার সঙ্গে যুক্ত করা হবে৷ মাদ্রাসা শিক্ষকদেরও মূল ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে৷ আগামী মাস থেকেই শুরু হয়ে যাবে এই কর্মসূচি৷

আরও পড়ুন: বিজেপি কর্মীকে খুনের পর অ্যাসিড ঢেলে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা মালদহে

তাহলে কী মাদ্রাসায় ধর্মভিত্তিক শিক্ষা হবে না? এই ট্যুইটের পরই শুরু হয় বিতর্ক৷ নাকভি জানিয়ে দেন, ইসলাম ধর্ম শিক্ষায় আঘাত করা হবে না৷ কিন্তু বর্তমান প্রজন্মকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে৷ তবেই তারা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে৷ তার প্রয়োজনেই এই পদক্ষেপ৷

এরপরই দেশের বিভিন্ন মসজিতের ইমামরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান৷ ইমাম উমর ইলাসি বলেন, ‘বিগত দিনে সংখ্যালঘু শিক্ষা নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেনি৷ কিন্তু, এটা বড় সিদ্ধান্ত৷ এবার হয়তে দেশের উন্নয়নে আমাদের ছেলে মেয়েরা প্রয়োজনীয় ভূমিকা নিতে পারবে৷’ এর জন্য কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু উন্নন মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এলাসি৷

আলিগড়ের এক ইমাম রেহান আক্তার কুয়েসমি বলেন, ‘‘এর আগে এই ধরণের সিদ্ধান্ত বেশ কয়েকবার হয়েছিল৷ কিন্তু কার্যকর হয়নি৷ আশা করব মোদী সরকার এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করবে৷ এর সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা মতো বাস্তবায়িত হবে দেশের পাঁচ কোটি মুসলিম পড়ুয়াকে বৃত্তি দেওয়ার বিষয়টিও৷’’ প্রধানমন্ত্রী মোদী ঈদের দিনই সংখ্যালঘু মুসলিম পড়ুয়াদের বৃত্তি দেওয়া বিষয়টি ঘোষণা করেন৷

আরও পড়ুন: ‘মিনি পাকিস্তান’ বাংলা থেকে বিহারীদের তাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা: JDU

সমাজের উন্নয় সম্ভব সংখ্যালঘুদের শিক্ষার মানোন্নয়নের মাধ্যমে৷ ধর্ম শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজন আধুনিক উন্নত শিক্ষায় পড়াশুনো করা৷ নমো সরকারের দৃষ্টি সেদিকেই৷ বারে বারে বলেছেন নরেন্দ্র মোদী৷ তাঁর কথায়, ‘‘একহাত যেমন কোরান থাকবে, তেমন অপর হাতে থাকবে কম্পিউটার৷’’

মুসলিম মহিলাদের ক্ষমতায়ণে আধুনিক শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বিজেপির তরফে৷ তবেই মিলবে সর্বভারতীয় সরকারি প্রবেশিকা পরীক্ষাগুলির প্রশিক্ষণের সুযোগ৷ ইতিমধ্যেই আইএস, আইপিএস, রেল সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূল পরীক্ষার প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷