স্টাফ রিপোর্টার, হাওড়া : স্বামীজী বলেছিলেন,”জীব সেবাই শিবসেবা”। রেজাউল, শাহাজাহানরা যেন করলেন শিব সেবা। কিডনি প্রতিস্থাপনের রক্ত খুঁজে দিলেন দিব্যেন্দুর জন্য।

মুমূর্ষু রোগীর পাশে দাঁড়িয়ে কার্যত ‘ত্রাতা’ হয়ে উঠলেন উলুবেড়িয়ার একদল যুবক। দুষ্প্রাপ্য গ্রুপের রক্তাভাবের জেরে কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়াই আটকে গিয়েছিল। তা জানতে পেরেই রক্ত দিয়ে এগিয়ে এলেন উলুবেড়িয়ার যুবক। সূত্রের খবর, বেলঘরিয়ার বাসিন্দা বছর আটচল্লিশের দিবেন্দ্যু দাস কিডনির সমস্যা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে একটি কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকরা তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। সেই অনুযায়ী শুরু হয় প্রস্তুতি। কিন্তু বাধ সাধে রক্ত।

দিব্যেন্দুর রক্তের গ্রুপ ‘ও’ নেগেটিভ। বহু খুঁজেও পাওয়া যায়নি প্রয়োজনীয় রক্ত। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবর ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু তাতেও সমাধান সূত্র মেলেনি। রক্ত নিয়ে রাজ্যজুড়ে কাজ করা ‘রক্তবন্ধু’রা আসরে নামেন। রেজাউল, শাহাজাহানের আপ্রাণ চেষ্টায় মেলে কাঙ্খিত সমাধান। খবর পেয়েই নিজের ‘ও’ নেগেটিভ রক্ত দিয়ে এগিয়ে আসেন উলুবেড়িয়ার আলপুকুরের যুবক পেশায় ডেকরেটার ব্যবসায়ী সোহেল খান।

ফুলেশ্বরের সঞ্জীবনী হাসপাতালে গিয়ে দিব্যেন্দু দাসের জন্য নিজের ‘ও’ নেগেটিভ রক্তদান করেন সোহেল। অসুস্থ ব্যক্তির কিডনি প্রতিস্থাপনের উদ্দেশ্যে সেই রক্ত দ্রুত কলকাতার ওই বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। সোহেলের এহেন মানবিক পদক্ষেপকে কুর্নিশ জানিয়েছেন বহু মানুষ।

সম্প্রতি হিন্দু মহিলাকে রক্ত দিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন এক মুসলিম মহিলা। অভিনব ঘটনার সাক্ষী ছিল উলুবেড়িয়ার বিশ্বাস পরিবার। উলুবেড়িয়ার বাসিন্দা বছর উনষাটের গীতা বিশ্বাসের হঠাৎই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। তাঁকে ভর্তি করা হয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে। রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা দ্রুত কমতে থাকে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে গীতা দেবীকে রক্ত দেওয়া অনিবার্য হয়ে পড়ে। AB+ পজিটিভের রক্তের খোঁজে হন্য হয়ে ঘুরতে শুরু করেন বিশ্বাস পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা গ্রামীণ হাওড়ায় রক্তদান নিয়ে নিরন্তরভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া রেজাউল করিমের দ্বারস্থ হন।

রেজাউল বাবু দেরি না করে গীতাদেবীর জন্য দ্রুত রক্তের সন্ধানে নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন। তা দেখেই সঙ্গে সঙ্গেই রক্ত দিতে এগিয়ে আসেন উত্তর পাঁচলার বছর তিরিশের তরুণী সাবানা সুলতানা। সোমবার একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে তিনি গীতাদেবীকে রক্তদান করেন। রক্ত দেওয়ার পর সাবানা সুলতানা বলেছিলেন, ‘মুমূর্ষু গীতাদেবীকে রক্তদান করতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’ রেজাউল জানিয়েছিলেন , ‘ফেসবুকের মতো ভার্চুয়াল জগৎ থেকে আমার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুমূর্ষু মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য আমি অত্যন্ত গর্বিত।’

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

কোনগুলো শিশু নির্যাতন এবং কিভাবে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো যায়। জানাচ্ছেন শিশু অধিকার বিশেষজ্ঞ সত্য গোপাল দে।