রুণা লায়লা যখন ‘ইস্টিশানের রেলগাড়িটা’ শোনান, তখন কে ভাবতে বসে তিনি এপার বাংলার না ওপারের? কবীর সুমন যখন ‘খোদার কসম জান’ গেয়ে ওঠেন তখন কলকাতা আর ঢাকা কি অনুভবে এক হয়ে যায় না? সকল সংগীতপ্রেমী জানেন, কথা-সুরের এই ভুবনে কোনও কাঁটাতার থাকে না৷ কোনও রাজনীতির জল আটকায়ও না, গড়ায়ও না৷ আর তাই দুই দেশই সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানে একে অন্যের হাত ধরেছে সুযোগ এলেই৷ সেরকমই এক প্রয়াস বাংলাদেশের স্বনামধন্য শিল্পী সাহিনার অ্যালবাম ভারতে প্রকাশ হওয়া৷ অ্যালবাম উদ্বোধন করলেন এদেশের জাতীয় পুরস্কারজয়ী পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়৷ উপস্থিত ছিলেন সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রাণী সেন, প্রতীক চৌধুরী, আচার্য সঞ্জয় চক্রবর্তী প্রমুখ৷

সাত সুরের উত্তরাধিকার নিয়েই গানের দুনিয়ায় এসেছেন সাহিনা৷ বাবার হাত ধরে গানে হাতেখড়ির দিন থেকেই তিনি জানতেন, সুরের কোনও সীমানা হয় না৷ আর তাই বোধহয় স্বপ্ন দেখতেন দেশ-কাল পেরিয়ে srijit-1নিজের সঙ্গীত ও ভাবনা নিয়ে সকলের কাছে পৌঁছনোর৷ ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনা চলচ্চিত্রমহলে আকছার হলেও, গানবাজনার দুনিয়ায় ততোটা পরিচিত নয়৷ সাহিনার আগ্রহে তা সম্ভব হয়েছে৷ জিরোনা এন্টারটেইনমেন্ট থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর অ্যালবাম ‘দূরবীণে চোখ’৷ ছবির গান লিখেছেন রাজীভ দত্ত৷ সুর ও সংগীত আয়োজন করেছেন পিন্টু ঘটক৷

‘‘ আমি বরাবরই এ স্বপ্ন দেখতাম৷ কলকাতায় বেড়াতে আসতাম৷ তখনই এপার বাংলার সংগীতপ্রেমীদের সঙ্গে পরিচয়৷ গানের সূত্রে বন্ধুতা, তারপর এই অ্যালবাম প্রকাশ ,’’ বললেন সাহিনা৷ নিজের দেশে তিনি যথেষ্ট পরিচিত একজন গায়িকা৷ এ বাংলার শ্রোতাদের কাছে  কীভাবে গৃহীত হবেন সে ভাবনা কি নাড়া দেয়? ‘‘নতুন শ্রোতাদের জন্য এটাই বলব, আমরা যারা গান ভালোবাসি তাদের স্বপ্ন থাকে নতুন কাজ করার৷ সেটা যে কোনও দেশে হতে পারে, যে কোনও ভাষায় হতে পারে৷ শ্রোতারা যদি সেই নতুন কাজ গ্রহণ করেন তাহলেই ভালো লাগবে৷ আর আমার তো মনে হয়, আমরা দু’বাংলা একই৷ কোথাও আমি কোনও তফাৎ দেখি না৷  কিছু কিছু জিনিসের জন্য হয়ত আটকে আছি আমরা, কিন্তু সে ব্যবধান বোধহয় না থাকাই ভাল৷,’’ মত সাহিনার৷ সংস্কৃতির এই মিশে যাওয়ার কথা উঠে এল সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের কথাতেও৷ বললেন, ‘‘সংগীত সবসময়ই রাজনৈতিক এবং নানাবিধ যে সব কাঁটাতার থাকে, তা মানে না৷ চিরকালই সে সব উত্তীর্ণ করে নিজের অমরতা প্রমাণ করেছে৷ মানুষ বাংলা গান ভালোবাসে, বাংলার গান ভালবাসে৷ আমার আশা, সেই ঘরানা এই অ্যালবামের ক্ষেত্রেও বজায় থাকবে৷ ’’ দুই বাংলার এই এক হয়ে কাজ করায় বাংলা গান শোনার পরিধি যে অনেকখানি প্রসারিত হবে এমনটাই মনে করেন তিনি৷

সাতরঙের রামধনুর আকাশ যেমন ভাগাভাগি হয় না, সাতসুরের আকাশও তেমনই এক৷ দুই বাংলার হাত ধরাধরি করে মিউজিক অ্যালবাম প্রকাশ যেন সে কথাই মনে করিয়ে দিল আরও একবার৷

সরোজ দরবার