স্টাফ রিপোর্টার, বহরমপুর: মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ অমান্য করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসকরা তাদের কর্ম বিরতিতে অটুট ছিল৷ ইতিমধ্যে প্রায় ৩৫ জন চিকিৎসক ইস্তফা পত্র জমা দিয়েছে৷ এরপরই হাসপাতালে পৌঁছায় মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ আবু তাহের খান সহ জেলা নেতৃত্ব৷ তারা গিয়ে ধর্না ও কর্মবিরতি তুলে নেওয়ার আবেদন করে জুনিয়র চিকিৎসকদের৷ তারা তৃণমূল নেতৃত্বদের কথাও দেয় ধর্না ও কর্মবিরতি তুলে নেবে৷ কিন্তু আবার সেই একই অবস্থা৷ সাংসদের কথা অমান্য করে ফের ধর্না ও কর্মবিরতির ডাক দিল মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসকরা৷

চতুর্থ দিনেও কর্মবিরতি জারি রইল মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জুনিয়র চিকিৎসকদের। চরম বিপাকে রোগী ও রোগীর আত্মীয়রা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পরিস্থিতি সামাল দিতে মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ আবু তাহের খান সহ জেলা নেতৃত্ব হাসপাতালে যান৷

তারা গিয়ে প্রথমে জুনিয়র চিকিৎসকদের এই অবস্থান তুলে নেওয়ার কথা বলেন৷ সেই সময় প্রথমে দুই পক্ষই বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পরে দুই পক্ষই আলোচনায় বসে এবং জুনিয়র চিকিৎসকদের উপযুক্ত নিরাপত্তার আশ্বাস দেন তিনি৷ তারপরই বিক্ষোভ অবস্থান ও কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেয় জুনিয়র চিকিৎসকরা। তারা কাজে যোগ দেওয়ার কথা জানান।

কিন্তু ফের শুক্রবার সকাল থেকেই কাজ বন্ধ রেখে ধর্নায় অনড় থাকল জুনিয়র চিকিৎসকরা৷ সকালে ওপিডি খুললেও পরে তাও বন্ধ করে দেওয়া হয়৷ জুনিয়র চিকিৎসকদের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে ফের কর্মবিরতির ডাক দেয়। তাদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এসে তাদের ভয় দেখিয়ে ধর্না তুলতে বাধ্য করে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। তারা নিজেদের প্রাণনাশের ভয়ে সাময়িকভাবে ধর্না কর্মসূচি তুললেও এদিন রাত থেকে ফের তাদের অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন৷ এদিন ছাত্র ছাত্রী ও জুনিয়র চিকিৎসকদের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানায় সিনিয়র চিকিৎসক ও শিক্ষকরা।

শুক্রবার সকাল থেকে কলেজ হোস্টেলর সামনে ফের ধর্না শুরু করে জুনিয়র চিকিৎসকরা ও ছাত্র ছাত্রীরা। যতদিন না তাদের দাবি মানা হবে ততদিন এই আন্দোলন চলবে বলে হুশিয়ারি দিয়েছে তারা৷ অন্যদিকে জুনিয়র চিকিৎসকদের এই কর্মবিরতি জেরে শিকেয় উঠেছে হাসপাতালের পরিষেবা। পরিষেবা না পেয়ে বাধ্য হয়েই ছুটি নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে রোগীরা।

প্রসূতি বিভাগে অবস্থা আরও শোচনীয়। সেখানে চিকিৎসক না থাকায় অনেক প্রসূতিকেই হাসপাতাল থেকে অন্যত্র ঘুরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। আবার অনেককেই ছুটি দেওয়ার কথা বলা হলেও তাদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলছেন রোগীর পরিবার৷