দিপালী সেন, কলকাতা: ছেড়ে দিতে রাজি নয়৷ বরং, আবারও ফিরে আসুক ‘সুকন্যা’, নারী সশক্তিকরণের লক্ষ্যে এমনই চাইছে এখন কলকাতার এক মহিলা কলেজ৷

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কন্যাশ্রী প্রকল্পের একটি অংশ হল ‘সুকন্যা’৷ যার অধীনে গত ডিসেম্বর মাস থেকে কলকাতার ছ’টি কলেজের মেয়েদের দেওয়া হচ্ছে আত্মরক্ষার জন্য পাঠ৷ উদ্দেশ্য, নারী সশক্তিকরণ৷

আরও পড়ুন: মহিলারা মার্শাল আর্ট শিখুন, অক্ষয়ের বার্তা

প্রতি সপ্তাহে তিন দিন দুই ঘণ্টা করে হাতের কাছে থাকা সহজলভ্য বিভিন্ন জিনিসের সাহায্যে মেয়েদের আত্মরক্ষা করতে শেখাচ্ছে কলকাতা পুলিশের ‘স্পোর্টসম্যান স্পিরিট’৷ প্রতিটি ক্লাসে ৪০ জন করে ছাত্রী শিখে নিচ্ছেন আত্মরক্ষার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি৷

কিন্তু, গত কয়েক মাসে ছাত্রীরা কী শিখলেন? তা দেখানোর জন্য শনিবার মুরলীধর গার্লস কলেজে আয়োজন করা হয়েছিল ইন্টার কলেজ উওমেন এমপাওয়ারমেন্ট অ্যান্ড সেল্ফ ডিফেন্স কনফারেন্স৷ এই কলেজের সঙ্গে ‘সুকন্যা’-র অধীনে থাকা ভিক্টোরিয়া ইন্সটিটিউশন, বাসন্তী দেবী কলেজ, নিউ আলিপুর কলেজ, বিবেকানন্দ উওমেন কলেজ এবং, শ্রী শিক্ষায়তনের ছাত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে৷ ওই কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা৷

আরও পড়ুন: চকবলের পর মার্শাল আর্টেও সাফল্য পেল শিলিগুড়ি

‘সুকন্যা’র প্রশংসায় পঞ্চমুখ মুরলীধর গার্লস কলেজের অধ্যক্ষা কিঞ্জলকিনি বিশ্বাস বলেন, ‘‘ছোট ছোট মেয়েরা কী করে তাদের থেকে বড় প্রতিদ্বন্দ্বীদের উলটে ফেলে দিচ্ছে, তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না৷ আমি চাইব পরবর্তী শিক্ষাবর্ষে সুকন্যা আবার আমাদের কলেজে আসুক৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘তিন বছর পরে ছাত্রীরা যখন এই কলেজ থেকে স্নাতক হয়ে বের হবে, তখন তারা যেন শিক্ষা এবং আত্মরক্ষার বিষয়ে ক্ষমতাশালী হয়ে বের হয়৷’’

আরও পড়ুন: ছাত্রীদের আত্ম-সুরক্ষায় নিখরচায় ক্যারাটের ব্যবস্থা বাঁকুড়ার স্কুলে

যদিও, ছাত্রীদের আত্মরক্ষায় পারদর্শী করতে এটাই প্রথম পদক্ষেপ নয় মুরলীধর গার্লস কলেজের৷ ২০১৬-র শুরু থেকে ছাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে মার্শাল আর্টস শেখানোরও ব্যবস্থা রয়েছে এই কলেজে৷ সপ্তাহে দুই দিন এক ঘণ্টা করে ছাত্রীদের মার্শাল আর্টসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়৷ তবে, ‘সুকন্যা’র কাছে মার্শাল আর্টস একটু পিছিয়ে গিয়েছে বলেই জানিয়েছেন অধ্যক্ষা৷ তিনি বলেন, ‘‘সময়ের কারণেই হোক বা অন্য কোনও কারণে, সুকন্যার সাড়া খুব ভালো পাওয়া গিয়েছে৷’’ মার্শাল আর্টস থাকুক বা না থাকুক, এই কলেজে আবারও ‘সুকন্যা’কেই ফিরে পেতে চাইছেন তিনি৷

আরও পড়ুন: বাংলা প্যাঁচে বিশ্ব জয় বাঙালি ‘জ্যাকি চ্যান’-এর

এই বিষয়ে মন্ত্রী শশী পাঁজার বক্তব্য জানার জন্য তাঁর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়৷ তবে, তিনি ব্যস্ত থাকায় তাঁর কোনও বক্তব্য মেলেনি৷ এ দিকে, ‘সুকন্যা’কে যদি আবার ফিরে পাওয়া না যায়, তা হলে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মার্শাল আর্টসকে ছাত্রীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন কিঞ্জলকিনি বিশ্বাস৷ তিনি বলেন, ‘‘প্রয়োজনে অভিভাবকদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের বোঝানো হবে৷ পুরোনো ছাত্রীদের মাধ্যমেও বোঝানোর চেষ্টা হবে, যে আত্মরক্ষা শিখে নেওয়ার বিষয়টি মেয়েদের জন্য কতটা প্রয়োজনীয়৷’’

আরও পড়ুন: তায়েকোন্দো ‘ক্ষতিকর দাওয়াই’, সরকারি নির্দেশে ক্ষুব্ধ ডাক্তাররা