বিশেষ প্রতিবেদন: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে খুনের পর আর খোঁজ মেলেনি। টানা ৪৫ বছর নিখোঁজ, মোস্ট ওয়ান্টেড এমনই বাংলাদেশি বরখাস্ত সেনা অফিসার ২০ বছরের বেশি সময় লুকিয়ে ছিল কলকাতায়। বিবিসি জানাচ্ছে এই খবর। বিশ্বের অন্যতম চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি বাংলাদেশের জাতির জনক তথা প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে খুন।

আন্তর্জাতিক মহলে ঝড় উঠেছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ অগস্টের দিন। সেই ঘটনার ৪৫ বছরের মাথায় ঢাকায় ধরা পড়েছে খুনি সেনা অফিসারদের একজন আবদুল মাজেদ। যদিও অনেকেই পলাতক। কয়েকজনের ফাঁসি হয়েছে। ধৃত মাজেদও ফাঁসির আসামী। বাংলাদেশ সরকার বলতে চায়নি দীর্ঘ সাড়ে চার দশক এই মোস্ট ওয়ান্টেড বাংলাদেশি কোথায় ছিল আত্মগেপনে।

তবে বিবিসি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু কে খুনের পর আবদুল মাজেদ ভারতে চলে যায়। যদিও বাংলাদেশ সরকার জানায়, আবদুল মাজেদ কে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে পুশব্যাক করিয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশ। কিন্তু কোনও দেশের নাম বলা হয়নি। বিবিসি জানাচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের অন্যতম আবদুল মাজেদের আত্মগোপনের বিষয়টি প্রকাশ করেছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হেমায়েত উদ্দিন খান হিরন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার ভোরে গ্রেফতারের পর আদালতে তোলার আগে কিছুটা সময় আবদুল মাজেদের সাথে কথা হয়েছে। সেই সময় ধৃত জানায় গত ২০-২২ বছর ধরে কলকাতায় লুকিয়ে ছিল। তবে কলকাতার কোথায় ছিল তা বলতে চায়নি মাজেদ। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিবিসি কে জানিয়েছেন, মার্চ মাসের ১৫-১৬ তারিখের দিকে মাজেদ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। কেমন করে এসেছে সেটা জানানো হয়নি।

আবদুল মাজেদ কে মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার মিরপুর গাবতলি এলাকা থেকে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিটিসি) গ্রেফতার করে। সিটিটিসি জানিয়েছে, মাজেদের বাংলাদেশে ঢোকার বিষয়টি ইন্টারপোল জানিয়েছিল। সেই তথ্য অনুযায়ী, তার গতিবিধি লক্ষ্য রেখে গ্রেফতার করা হয়।

এক নজরে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা (মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত)- ১২ খুনির মধ্যে পাঁচ খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে,।তারা হল- কর্নেল (অব.) সৈয়দ ফারুক রহমান, কর্নেল (অব.) সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, লে. কর্নেল (অব.) মহিউদ্দিন আহমদ, মেজর (অব.) একে বজলুল হুদা এবং মেজর (অব.) একেএম মহিউদ্দিন (আর্টিলারি)। বাকি সাতজনের মধ্যে আজিজ পাশা ২০০১ সালে জিম্বাবোয়েতে মারা যায়।

বাকি পলাতক খুনিরা: লে. কর্নেল (বরখাস্ত) খন্দকার আবদুর রশিদ, মেজর (বরখাস্ত) শরিফুল হক ডালিম, লে. কর্নেল (অব.) এএম রাশেদ চৌধুরী, মেজর (অব.) এসএইচএমবি নূর চৌধুরী ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন খান। অভিযোগ গ্রেফতার বা প্রত্যর্পণ ঠেকাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, পাকিস্তান, লিবিয়া সহ আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তারা লুকিয়ে।