তুফানগঞ্জ: ফের বাংলায় ফিরে এল লাশের রাজনীতি। মৃত্যু হলেই সেই মৃতদেহ নিয়ে রাজনৈতিক দলের নেতাদের লড়াই এরাজ্যে নতুন কিছু নয়। আর সেই মৃত্যু যদি অস্বাভাবিক হয় তাহলে তো আর কথাই নেই।

তেমনই এক ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে উত্তরবঙ্গের কোচবিহারে। চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার সকালে কোচবিহার শহর সংলগ্ন ডাউয়াগুড়ির কাঠালতলা এলাকায় একটি পুকুর থেকে এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার হয়। গলার নলি কেটে তাকে খুন করা হয়েছিল। সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে ওই দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।

সেই সময় থেকেই শুরু হয়ে যায় চাপানউতোর। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে যে মৃত ব্যক্তির নাম আনন্দ পাল। ৩০ বছরের আনন্দবাবু তুফানগঞ্জের ভেলাকোপার বাসিন্দা। পেশায় ঢাকি আনন্দ পাল্কে নিজেদের দলের কর্মী বলে দাবি করতে থাকে বিজেপি এবং তৃণমূল দুই পক্ষই। যা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে মৃত আনন্দ পাল ঘাস ফুল শিবিরের কর্মী। লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে বিজেপির সাফল্যের পরেই হিংসা শুরু হয়েছে। যার বলি হতে হয়েছে আনন্দকে। একই দাবি করেছে পদ্ম শিবির। বিজেপির পক্ষ থেকে বুধবারে শিলিগুড়ি, মালদহ সহ বিভিন্ন জেলায় দলীয় কর্মী খুনের প্রতিবাদে পথ অবরোধ করা হয় এবং বিক্ষোভ দেখানো হয়।

এই বিষয়ে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন,”পুকুর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের এক কর্মীর মৃতদেহ দেখতে পাওয়া গিয়েছে। বিজেপি কর্মীরা তার গলাকেটে মেরে পুকুরে ফেলে দেওয়া দেয়। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছে ওই যুবকের বাড়ির লোক তৃণমূল কংগ্রেস দলের সাথে যুক্ত। এবং তার পরিবারের লোক আমাদের দলীয় পঞ্চায়েত ছিলেন। বিজেপি দাবি করলে হবে না যে ওই ব্যক্তি বিজেপি।”

অন্যদিকে, আনন্দ পালকে নিজেদের কর্মী বলে দাবি করে কোচবিহার জেলা বিজেপি সংখ্যালঘু মোর্চার সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক জানিয়েছেন যে সোমবার রাতে পাড়ায় পিকনিক ছিল৷ পিকনিক থেকে বাড়ি ফেরার কথা বলে বেরিয়েছে। কিন্তু তারপর আর বাড়ি ফেরেন নি৷ পথে তাকে খুন করা হয়েছে। মঙ্গলবার বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে একটি পুকুরে গলাকাটা অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়৷ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করুক পুলিশ।

মৃত আনন্দ পালের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে বিজেপির দাবিকেই সিলমোহর দেওয়া হয়েছে। আনন্দবাবুর দাদা গোবিন্দ পাল বলেছেন, ” এক সময় আনন্দ পাল তৃণমূল করতেন। এখন তারা বিজেপি করেন।” তবে এই খুনের পিছনে কে বা কারা জড়িত সেই বিষয়ে তিনি সন্দিহান রয়েছেন বলে জানিয়েছেন গোবিন্দবাবু।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে সোমবার রাতে এক বা একাধিক দুষ্কৃতী ওই ব্যক্তিকে গলা কেটে পুকুরে ফেলে দিয়ে যায়। কেন এই খুন সেই বিসষয়ে এখনই কিছু বলা সম্ভব নয়। মৃত ব্যক্তির গলায় ধারালো অস্ত্রের ক্ষত থাকার পাশাপাশি গোটা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বাইক উদ্ধার করা হয়েছে৷ ওই ব্যক্তি রাজনৈতিক কারণে খুন হয়েছে কিনা তা তদন্তে করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প