বোলপুর: হাইপ্রোফাইল তৃণমূলের নেতা অনুব্রত মণ্ডলের গ্রামে সোমবার দিন-দুপুরে খুন হতে হল এলাকারই বিজেপি কর্মীর মা’কে। জানা গিয়েছে, বীরভূম জেলার অন্তর্গত নানুর থানার হাটসেরান্দি গ্রামে সোমবার ওই এলাকারই বিজেপি কর্মীর মা শঙ্করী বাগদিকে গুলি করে খুন করে তৃনমূল আশ্রিত দুস্কৃতিরা, এমনটাই অভিযোগ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নানুরের হাটসেরান্দি গ্রামে সোমবার তৃণমূল এবং বিজেপি’র মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের ফলে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে নানুরের ওই গ্রাম। জানা গিয়েছে, এদিনের সংঘর্ষকে ঘিরে চলে গুলি। আর দুষ্কৃতীদের ছোঁড়া গুলির আঘাতে মৃত্যু হয় ওই এলাকার বিজেপি কর্মী উদয় বাগদির মা শঙ্করী বাগদির।

জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিজেপি করে আসছে উদয় বাগদি। সূত্রের খবর, বিজেপি করার অপরাধে উদয় বাগদিকে বেশ কিছুদিন আগে তৃনমূলের কিছু কর্মী হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। সেই হুমকিকে সে গুরুত্ব না দিয়ে ফের বিজেপি করতে শুরু করে। এরফলে ওই গ্রামের পাশে মালপাড়া থেকে তৃণমূলের দুষ্কৃতী বাহীনি এসে পশ্চিম পাড়ায় আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ। গুলি চলার পাশাপাশি চলে মারধোরও। এই ঘটনায় পশ্চিমপাড়ার বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি গুলিতে মৃত্যু হয়েছে উদয় বাগদির মা শঙ্করী বাগদির।

জানা গিয়েছে, এলাকার তৃণমূল আশ্রিত গুন্ডারা এদিন উদয়কে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে আসে বলে অভিযোগ বিজেপি নেতা অনুপম হাজরার। কিন্তু ঘটনাচক্রে তখন সামনে উদয় বাগদির মা চলে আসায় গুলি গিয়ে লাগে তাঁর শরীরে। চোখের সামনে ঘটে যায় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনা। এদিকে সকাল থেকে মৃতদেহ ঘিরে ওই এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মৃতদেহ ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, যতক্ষন না পর্যন্ত দোষীদের ধরতে পারছে পুলিশ, ততক্ষন তাঁরা দেহ তুলে নিয়ে যেতে দেবেনা।

খুনের ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় নানুর থানার পুলিশ। পড়ে পুলিশের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। যদিও বিজেপি কর্মীর মায়ের খুন হওয়ার ঘটনায় এলাকা জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে শঙ্করী বাগদি খুন হওয়ার ঘটনায় মৃতের আত্মীয় বৈদ্যনাথ বাগদি জানান,’মালপাড়ার খুদু বাগদি, কালাম বাগদি, সন্তোষ বাগদি, রঘুনাথ বাগদি, মেনকা বাগদি, মিলন বাগদি আরো কয়েকজন দল বেঁধে বন্দুক, আরো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে তাদের উপর হামলা চালায়। জানা গিয়েছে,তারপর তাঁদের কয়েকজনকে ধরে মারধোর করে এবং শঙ্করী বাগদীকে গুলি করে দিয়ে চলে যায়। গুলি লেগে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর’।

জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় তৃনমূলকে দোষারোপ করে বীরভূমের বিজেপির জেলা সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন,’ওটা অনুব্রতবাবুর গ্রাম। আর লোকসভা ভোটে ওই এলাকায় বিজেপি ২২৩ ভোটে লিড পেয়েছে। এটাই কারন বলে জানান তিনি। আর সেইদিন থেকেই এই এলাকায় যারাই বিজেপি করে তাদের উপর নানা অত্যাচার করে আসছে ওরা। তিনি আরও বলেন, যেদিন থেকে বিজেপি তৃনমূল দলের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে সেইদিন থেকেই ওদের সন্ত্রাস শুরু হয়েছে। ‘আর সেই সন্ত্রাসের বলির শিকার হলো শঙ্করী বাগদি’। তৃনমূল তো এখন একের পর এক খুন করবে,সন্ত্রাস করে,আতঙ্ক সৃষ্টি করবে। এই রাজনীতি তো এখন তৃনমূলের শুরু হয়েছে। ‘আর এই সমস্ত বিষয়ে পুলিশ তাদেরকে মদত করবে। আর সোমবারের ঘটনায় আমরা আবারও প্রশাসন ও তৃনমূলকেই দায়ী করলাম’ বলে সাফ জানিয়ে দেন বিজেপির জেলা সভাপতি।

এদিকে খুনের ঘটনা নিয়ে সরব হতে দেখা গেল বোলপুরের প্রাক্তন সাংসদ অনুপম হাজরাকে। তিনি জানিয়েছেন,মৃতার ভাইও বিজেপি করে বলে শাসকদলের ভয়ে তাঁরা এখন গ্রাম ছাড়া হয়েছে।