স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কড়েয়া থানা এলাকার ৪২ নং ব্রড স্ট্রিট৷ এখানেই মেয়ের সঙ্গে বসবাস করছিলেন ষাটোর্ধ্ব বিশ্বজিৎ বসু৷ বুধবার গভীর রাতে ওই বাড়ি থেকে তার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ৷ মৃতের গলা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে৷

স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার রাতে বিশ্বজিৎ বসুর মেয়ে বাড়িতে ফিরে দেখেন বাড়ির সদর দরজা বন্ধ। দীর্ঘক্ষণ বাবাকে ডাকার পরেও কোনও সাড়া না পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিষয়টি জানান৷ পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। কড়েয়া থানার পুলিশ এসে দরজা ভেঙে বাড়ির ভিতরে ঢোকে৷ এবং ষাটোর্ধ্ব বিশ্বজিৎ বসুর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়৷ সেখানে চিকিৎসরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করে৷

পড়ুন: কলেজ পড়ুয়াকে গণধর্ষণ, ভয়ঙ্কর ঘটনার সাক্ষী দেশ

মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে৷ ঘটনাস্থলে আসে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হোমিসাইড শাখা। পুলিশ সূত্রে খবর, রাতে তারা যখন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী বিশ্বজিৎ বাবুর ঘরে ঢোকেন তখন দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়েছে৷ লন্ডভন্ড ঘরের জিনিসপত্র। ঘটনাস্থল থেকে একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। তার গলা ও ঘাড়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে৷ বৃহস্পতিবার ফের ঘটনাস্থলে যান ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ দল। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, বিশ্বজিৎ বসুকে খুন করা হয়েছে৷ কি কারণে খুন তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷

তবে অভিজাত ওই এলাকায় বেশ কিছুদিন ধরে প্রমোটাররা তাঁকে বাড়ি বিক্রির জন্য জোর করছিল। মাঝে মাঝেই বাড়িতে এসে তাঁকে নানাভাবে বিরক্ত করত। কিন্তু বাড়ি বিক্রিতে রাজি ছিলেন না বৃদ্ধ। সেই আক্রোশ থেকেই এই খুন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।