স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: দীর্ঘদিন ধরেই গঙ্গাদূষণের অভিযোগ রয়েছে উত্তর বারাকপুর পুরসভার বাসিন্দাদের৷ তাদের অভিযোগ দেবীতলা শ্মশান ঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর বারাকপুর পুরসভার ২৩টি ওয়ার্ডের আবর্জনা ফেলা হয়। একেবারে গঙ্গা তীরবর্তী অঞ্চলে আবর্জনা ফেলার কারণে ক্রমাগত গঙ্গা দূষণ হচ্ছে ওই এলাকায়।

এই দূষণের প্রেক্ষিতে আন্দোলনে নামলেন বামেরা৷ খোদ তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পুরসভার বিরুদ্ধে গঙ্গা দূষণের অভিযোগে আন্দোলনের পথে বামেরা। বুধবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার উত্তর বারাকপুর পুরসভার অন্তর্গত দেবীতলা শ্মশান ঘাট এলাকায় রাস্তায় নেমে আন্দোলন শুরু করেন বাম সমর্থকরা।

সিপিএম নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে দেবীতলা শ্মশান ঘাট এলাকায় উত্তর বারাকপুর পুরসভার আবর্জনা ফেলার গাড়ি ঢুকতে বাধা দেয় সিপিএম সমর্থকরা। তাদের অভিযোগ দেবীতলা গঙ্গা নদীর তীর যেন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। আবর্জনা গিয়ে মিশেছে গঙ্গার জলে। সেই সঙ্গে গঙ্গার খাঁড়িও বন্ধ হয়ে গেছে আবর্জনা স্তুপে।

এদিন পোস্টার ব্যানার নিয়ে গঙ্গা দূষণের প্রতিবাদ জানিয়ে বামেরা আন্দোলন শুরু করে৷ সিপিএম নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন,”উত্তর বারাকপুর পুরসভা আবর্জনা ফেলে গঙ্গাকে দূষিত করে ফেলছে। অবিলম্বে এই দূষণ বন্ধ করতে হবে। আজ থেকে ওদের আবর্জনা ফেলার গাড়ি এলাকায় ঢুকতে দেব না। আবর্জনা স্তূপ নিয়ে গাড়ি আসলে সেই গাড়ি আমরা ফিরিয়ে দেব। গঙ্গা দূষণের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন আমাদের লাগাতার চলবে, সভ্য সমাজে এই দূষণ চলতে পারে না।”

আন্দোলনকারীদের প্রশ্ন, কেন্দ্রীয় সরকার যেখানে গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করতে নমামি গঙ্গে প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে, সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত উত্তর বারাকপুর পুরসভা দিনের পর দিন গঙ্গার তীরে আবর্জনার স্তূপ ফেলে গঙ্গাকে দূষিত করে তুলছে। বুধবার সকালে উত্তর বারাকপুর পুরসভার আবর্জনা স্তূপ বোঝাই গাড়ি দেবীতলা শ্মশান ঘাট এলাকায় ঢুকলে সেই গাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে এই ঘটনার পর উত্তর বারাকপুর পুরসভার ভারপ্রাপ্ত পুরপ্রধান মলয় ঘোষ বলেন, “আমি বিষয়টা সম্পর্কে এখনো সঠিক তথ্য জানি না। আমাকে আমার পুরসভার জঞ্জাল বিভাগের পুরপারিষদ অভিজিৎ মজুমদারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। এরপরই আমি সংবাদ মাধ্যমকে বিষয়টা জানাতে পারব।”

উত্তর বারাকপুর পুরসভার সাধারন মানুষ জানিয়েছেন, প্রত্যেকদিন এই গঙ্গার তীরে সকলে প্রাতঃ ভ্রমণে আসেন, কিন্তু এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, দুর্গন্ধে গঙ্গায় স্নান করতে আসাও দায় হয়েছে । অবিলম্বে পুরসভার পক্ষ থেকে গঙ্গা দূষণ বন্ধ হোক, সেটাই আমরা চাই৷