সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : আমফান গিয়েছে কতদিন হল? গাঁটে গুনে পাক্কা আজ বুধবার। আট দিন। ওঁরা না থাকে দ্বীপে না থাকে গ্রামে। কিন্তু পুরোদস্তুর শহরের উপর থাকা অঞ্চলের মানুষগুলো হঠাৎই অজানা দ্বীপের বাসিন্দা। তাও নোংরা জলের দ্বীপ। আমফানের জেরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যখন জল না পাওয়ার অভিযোগ উঠছে , ওঁরা তখন জলমুক্তি চাইছেন। ‘নুন্যতম’ ক্ষতির উদাহরণ রূপে দাঁড়িয়ে কলকারখানা , ইট, কাঠ, পাথরের শক্ত দেওয়ালের শহর হাওড়ার বেলগাছিয়া অঞ্চলের মানুষ এখনও বানভাসি। জল পেরিয়ে খাবার নিয়ে আসবেন কোথা থেকে? শেষ পর্যন্ত একটা নৌকো পৌঁছেছে ওঁদের কাছে।

 

যুবকের দল হাওড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিবেশ নিয়ে কাজ করে। ঝড়ের ঠেলায় অনেক স্থানই এখন প্রত্যন্ত। জীবন ধারণের জন্য পরিবেশ ততোধিক খারাপ। তাই ‘গ্রামীণ হাওড়া পরিবেশ যৌথ মঞ্চ’-এর সাহায্যের হাত পৌঁছে গিয়েছে সাহায্যহীন হঠাৎ দ্বীপান্তরের বাসিন্দা হয়ে যাওয়া মানুষগুলির কাছে। সংগঠনের পক্ষে শুভ্রদীপ ঘোষ জানিয়েছেন, ‘বার বার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চ ও সাথী সংগঠন। দুরুহ সময়ে আমাদের প্রচেষ্টা কমিউনিটি কিচেন। পুরসভার মধ্যে হলেও হাওড়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল এখনও জলমগ্ন। কোথাও হাঁটু সমান জল কোথাও কোমর সমান। ঝড়ের কবলে পরে জমা জলে অনেক এলাকার মানুষের একটু একটু করে হারানোর তালিকা লম্বা হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই সমস্যা বাড়ছে। তথাকথিত এলাকার জনদরদিদের দেখা নেই। তাই ‘গ্রামীণ হাওড়া পরিবেশ যৌথ মঞ্চ’-এর কর্মীরা জল ঠেলে পৌঁছে গিয়েছিল দুর্দশায় দিন কাটানো মানুষগুলির কাছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার পৌঁছে দিয়ে এসেছি।’


বিরাডিঙি, বেলগাছিয়া অঞ্চল দিয়ে তাঁরা এই কাজ শুরু করেছেন। ক্রমে বি-গার্ডেন সহ আরও এরকম বহু অঞ্চলে তাঁদের সাহায্যের হাত পৌঁছে যাবে বলে জানাচ্ছেন সংগঠনের সহ সম্পাদক সম্রাট মণ্ডল। তিনি বলেন , ‘ওই পুরসভা এলাকাগুলোর মানুষের অবস্থা খারাপ আমরা জানতাম। কিন্তু সেখানে যে একটা ট্রলি নিয়েও যাওয়া মুশকিল হবে সেই ধারনা ছিল না। বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিতে ভেলায় ভাসিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে খাবারের পাত্র। এই কঠিন সময়ে আমরা আবারও এখানে ফিরে আসবো। সাহায্য করব মানুষকে। লড়াই চলিয়ে যাচ্ছি। হাওড়ার গ্রামে, শহরে, মফস্বলের, গলিতে জারি থাকবে আমাদের এই লড়াই।’

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV