কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, রায়গঞ্জ: রায়গঞ্জ পুরসভার নির্বাচনের আগে বড়সড় ভাঙন কংগ্রেসের। সোমবার রায়গঞ্জ রবীন্দ্র ভবনে পুরসভার কংগ্রেসের চার বিদায়ী কাউন্সিলার, রায়গঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির ১২ জন সদস্য, জেলা ও রায়গঞ্জ শহর যুব কংগ্রেসের সভাপতি সহ প্রায় তিন হাজার কংগ্রেস কর্মী ও নেতৃত্ব তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন। দলত্যাগী কংগ্রেস কর্মীদের হাতে তৃণমূলের দলীয় পতাকা তুলে দেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী গোলাম রব্বানী, জেলা সভাপতি অমল আচার্য, জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি গৌতম পাল, বিধায়ক মনোদেব সিনহা সহ অন্যান্যরা।

এদিনের সভায় তৃণমূলের ঐক্যবদ্ধ ছবি ফুটে ওঠে। উপস্থিত ছিলেন ইসলামপুর পুরসভার পুরপতি তথা বিধায়ক কানাইয়ালাল আগরওয়ালা, রাজ্য সম্পাদক অসীম ঘোষ, তৃণমূল নেত্রী কেয়া চৌধুরী, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক ভোলা পাল, তিলক চৌধুরী, জেলা আইএনটিটিইউসির সভাপতি অরিন্দম সরকার, জেলা পরিষদের সভাধিপতি আলেমা নূরী, সহ সভাধিপতি পূর্ণেন্দু দে, কালিয়াগঞ্জ পুরসভার পুরপ্রধান কার্তিক পাল, জেলা সম্পাদক রঞ্জন রায় সহ অন্যান্যরা।

- Advertisement -

জেলা সভাপতি অমল আচার্যর বলেন, কংগ্রেস নেতৃত্বের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে কংগ্রেসের একাধিক কাউন্সিলার ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যরা আজ তৃণমূলে যোগদান করেছে। আগামী দিনে রায়গঞ্জ পুরসভা সহ রায়গঞ্জ ব্লকের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি দখল করবে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন শিল্পী দাস, সাধন বর্মণ, মমতা রায়, নয়ন দাস, মানস ঘোষ, অভিজিত সাহা, বরেন রায়, গদাই দত্ত সহ একাধিক কংগ্রেস কাউন্সিলার, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ও যুব কংগ্রেস নেতৃত্ব তৃণমূলে যোগদান করেন। দলত্যাগীদের দাবি, রাজ্যের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে এবং উন্নয়নের স্বার্থে তৃণমূল যোগদান। যদিও এদিন বামফ্রন্টের কোন নেতৃত্ব তৃণমূলে যোগ দেননি। জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, নির্বাচনের আগেই ক্ষমতা লোভী ও অর্থ পিপাসুরা তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় জেলায় সংগঠন আরও মজবুত হবে। নির্বাচনে জয় লাভের পর দলত্যাগ করে তৃণমূলে যোগ দিলে সমস্যায় পড়তে হতো আমাদের। তাই আগে ভাগে তৃণমূলে যোগ দিয়ে ভালোই করলেন। আগামী পুরসভা নির্বাচনে রায়গঞ্জ আবার বিরোধীদের দখলেই আসবে তা একশো শতাংশ নিশ্চিত। এখন দেখার বিষয় যে আগামী রায়গঞ্জ পুরসভা নির্বাচনে দলত্যাগের প্রভাব পড়ে কিনা।