পাটনা: বিহারে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে হিংসা ছড়াতে মুঙ্গেরের থানা থেকে লুঠ হওয়া গুলি, কার্তুজের ব্যবহার হতে পারে। এমনই আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষের কারণে জ্বলতে থাকা মুঙ্গের এখন থমথম করছে।

বিজয়া দশমীর দিন দুর্গা বিসর্জন ঘিরে দু পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়। জখম হন আরও তিনজন। তারপরেই ছিল বিহারে প্রথম দফায় মুঙ্গেরের ভোট। শান্তিতে ভোটের পর ফের সংঘর্ষ ছড়ায়।

বৃহস্পতিবার সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি একেবারেই প্রশাসনের হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল। মুঙ্গের শহরের সর্বত্র হামলাকারীরা তাণ্ডব চালায়। পুলিশ ফাঁড়ি হামলা, সরকারি গাড়িতে আগুন ধরানো, বিভিন্ন সরকারি ভবনে ভাঙচুর চালানো হয়।

শুক্রবার জানা গিয়েছে, সংঘর্ষ চলাকালীন স্থানীয় পূরবসরাই ফাঁড়িতে ঢুকে হামলাকারীরা গুলি, কার্টুন লুঠ করেছে। মুঙ্গেরের ডিআইজি মনু মহারাজ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখন। কোনও অপরাধীকে ছাড়া হবে না।

তবে ফাঁড়ি থেকে কার্তুজ লুঠ হওয়ায় চিন্তিত নির্বাচন কমিশন। আশঙ্কা দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে এর যথেচ্ছ ব্যবহার করা হবে। মুঙ্গের লাগোয়া বিভিন্ন বিধানসভা ও পার্শ্ববর্তী বেগুসরাই সহ অন্যান্য জেলায় জারি কড়া সতর্কতা।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীরা পূরবসরাই ফাঁড়ি থেকে ১০০ রাউন্ড গুলি লুঠ করেছে। পুলিশ প্রশাসনের ধারণা বড়সড় কিছু একটা হতে চলেছে। দুর্গা বিসর্জন ঘিরে বচসার জেরে গুলি চালনা ও সংঘর্ষ ঘটানো হামলা শুরুর ছক ছিল। অন্যদিকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।

দশমীর দিন দুর্গা প্রতিমা ঘিরে সংঘর্ষের পাশাপাশি পুলিশের লাঠি চার্জ বিতর্কের আরও একটি ইস্যু। এই ছবি ভাইরাল হয়। কেন পুলিশ প্রতিমার চারপাশে থাকা সবার উপরে লাঠি চার্জ করল তার উত্তর মেলেনি। মুঙ্গেরে হিংসাত্মক পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারায় পুলিশ সুপার লিপি সিং ও জেলাশাসককে সাসপেন্ড করা হয়। এদের জায়গায় নতুন জেলাশাসক ও এসপি নিয়োগ দেওয়া ঘিরেও বিতর্ক প্রবল।

অভিযোগ, এসপি লিপি সিং পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বহুজন। মুঙ্গেরের হিংসাত্মক পরিস্থিতি নিয়ে বিরোধী আরজেডি, কংগ্রেসের নিশানায় মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ও এনডিএ।

অন্যদিকে মুঙ্গেরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে ততপর ডিআইজি মনু মহারাজ। সিংহম আইপিএস অফিসার বৃহস্পতিবার সংঘর্ষ থামাতে মুঙ্গেরের রাস্তায় পুলিশ বাহিনি নিয়ে টহল দেন। এর পর থেকে শান্ত হতে থাকে অবস্থা।

মুঙ্গেরের ডিআইজি হিসেবে প্রবল আলোচিত মনু মহারাজ। প্রথম দফার নির্বাচনের আগেই তিনি মাওবাদীদের বিরুদ্ধে পার্শ্ববর্তী জামুই জেলা লাগোয়া বনাঞ্চলে অভিযান চালান। কোবরা বাহিনির সঙ্গে মনু মহারাজের অভিযানের পরই মাওবাদীরা আপাতত হটে গিয়েছে মুঙ্গেরের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকে।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।