মুম্বই: প্রথাগতভাবে দশম বা দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষায় বসা হয়নি তার। নেই স্কুল পাসের কোনও সার্টিফিকেট। তা সত্ত্বেও পড়ার সুযোগ এল খোদ মার্কিন কলেজ থেকে। ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজিতে পড়ার সুযোগ পেল ১৭ বছরের ভারতীয় মালবিকা রাজ। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এ তার জ্ঞান আর আগ্রহই তাকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।

নম্বরটাই বড় কথা নয়, জ্ঞান আর বুদ্ধিটাই আসল। এটা প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন মুম্বইয়ের বাসিন্দা মালবিকার মা। সেই লড়াইতে জিতে গিয়েছেন তিনি। ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড অফ ইনফরমেটিক্সে (IOI) তিনবার মেডেল জিতেছেন এই তরুণী। দু’বার সিলভার আর একবার ব্রোঞ্জ। ম্যাসাচুসেটস ইউনিভার্সিটি থেকে একটি সুযোগ দেওয়া হয় এই IOI জয়ীদের জন্য। আর সেই বিশ্ব সুযোগই পেয়েছে মালবিকা। বছর চারেক আগে স্কুল ছেড়েছে মালবিকা। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং-এ আগ্রহ ছিল বরাবরের। সেসব নিয়েই আরও পড়াশোনা শুরু করে বাড়িতেই। কিন্তু ভারতের কোনও ইন্সটিটিউট যেমন আইআইটি-তে সুযোগ পায়নি সে। কারণ সেসব জায়গায় দ্বাদশ শ্রেণির সার্টিফিকেটের বাধ্যতামূলক। শুধুমাত্র চেন্নাই ম্যাথামেটিক্যাল ইন্সটিটিউটে স্নাতকোত্তর স্তরে সুযোগ পায় সে।

চার বছর আগে মুম্বইয়ের দাদর পার্সি ইউথ অ্যাসেম্বলি স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত মালবিকা। সেইসময়ই তাকে স্কুল ছাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মা সুপ্রিয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা একটা মধ্যবিত্ত পরিবার। স্কুলে ভালো রেজাল্ট করত মালবিকা। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল প্রথাগত শিক্ষার থেকে আমার সন্তানের খুশি থাকাটা বেশি জরুরি। আর এই সিদ্ধান্তটা খুব একটা সহজ ছিল না।’ এমনকি মালবিকার বাবাকে বোঝাতেও বেশ খানিকটা সময় লেগেছিল সুপ্রিয়ার। বাড়িতেই স্কুলের মত পরিবেশ তৈরি করে দেন তিনি। দেখেন ভীষণ খুশি আছে তাঁর মেয়ে। প্রত্যেকদিন আরও বেশি করে শেখার আগ্রহ বেড়ে গিয়েছে তাঁর মধ্যে। ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে শুতে যাওয়া পর্যন্ত সে ডুবে থাকত পড়াশোনায়। গত তিন বছর ধরে প্রোগ্রামিং অলিম্পিয়াডে ভারতীয়দের প্রথম তিনে নাম ছিল মালবিকার।

অন্যান্য বাবা-মায়েদের উদ্দেশে সুপ্রিয়া জানিয়েছেন, কোনোদিনই এমআইটি তে পড়ানোর উদ্দেশ্য ছিল না তাঁর। ভাগ্যক্রমে মালবিকা পেয়ে গিয়েছে। সুতরাং কোনও কিছু টার্গেট করে নয়, ছেলে মেয়ে কি চায়, সেদিকেই যেন বাবা-মায়েরা নজর দেন, সেকথাই বলেছেন তিনি।