মুম্বই: স্যুটকেসের ভিতরে থেকে বেরিয়ে এল এক তরুণীর ধড়-মুণ্ডহীন দেহ। তিন টুকরো অবস্থায় উদ্ধার মৃতদেহ। রবিবার সকালে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় মুম্বইয়ের কল্যাণ স্টেশনের বাইরে। একটি অটো থেকে উদ্ধার হয় দাবিহীন স্যুটকেস।

স্যুটকেস থেকে তরুণীর দেহ উদ্ধারের পর হন্যে হয়ে অপরাধীর খোঁজ শুরু করেন তদন্তকারীরা। তবে প্রাথমিকভাবে মিলছিল না কোনও সূত্রই। শেষমেশ ওই স্যুটকেসের ভিতরের দুর্গন্ধের সূত্র ধরেই অপরাধের রহস্যভেদ করল পুলিশ। আর তা সম্ভব হল মাত্র ৩০ ঘণ্টার মধ্যেই।

এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশের দাবি, ওই তরুণীর খুনি অন্য কেউ নন, তাঁরই বাবা অরবিন্দ তিওয়ারি। মেয়েকে খুন করে টুকরো টুকরো করে কেটে স্যুটকেসে ভরে দেহ ফেলে পালিয়েছেন অরবিন্দ। সোমবার মুম্বইয়ের থানের টিটবালার বাসিন্দা বছর ৪৭-এর অরবিন্দকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, মেয়ে প্রিন্সির সঙ্গে তাঁর প্রেমিকের মেলামেশা পছন্দ ছিল না অরবিন্দের। বারণ করা সত্ত্বেও প্রেমিকের সঙ্গ ছাড়তে নারাজ ছিলেন তরুণী। তাই মেয়েকে খুন করেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার ভোরে কল্যাণ রেলওয়ে স্টেশনের বাইরে একটি অটোর ভিতর থেকে ওই স্যুটকেসটি উদ্ধার করা হয়। সেখানকার অটোচালকেরাই স্যুটকেসের ব্যাপারে পুলিশকে জানিয়েছিলেন। পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক প্রকাশ লোন্ডে বলেন, ‘স্যুটকেসের ভিতর থেকে এক তরুণীর দেহ উদ্ধার হয়। মৃতার মাথা নেই, ধড়ও নেই। শুধু কোমরের নীচের অংশটি রয়েছে। দেহটি তিনটি টুকরো করা।’

ঘটনার তদন্তে নেমে ওই এলাকার অটোচালকদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। সে সময় এক অটোচালক জানান, ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ তাঁর অটোতে এক ব্যক্তি ওই স্যুটকেস নিয়ে উঠেছিলেন। তা থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। তবে এ নিয়ে প্রশ্ন করলে কোনও উত্তর না দিয়েই অটোতে স্যুটকেস রেখে নেমে যান তিনি। এর পর পুলিশকে খবর দেন অটোচালকেরা। এর পর তদন্তে নেমে কল্যাণ-সহ আশপাশের বিভিন্ন স্টেশন এলাকার সিসিটিভি-র ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে পুলিশ।

ফুটেজে দেখা যায়, ওই একই ধরনের স্যুটকেস নিয়ে ট্রেনে উঠছেন দুজন ব্যক্তি। তবে তার মধ্যে লাল জামা পরা এক ব্যক্তি স্টেশনের ধারে একটি শৌচালয়ে ঢুকছেন। কিন্তু, সেখান থেকে বের হন সাদা জামা পরে। তাতেই সন্দেহ হয় পুলিশের। সিসিটিভি ফুটেজে আরও দেখা যায়, লাল জামা পরা অবস্থায় একটি অটোতে উঠছেন ওই ব্যক্তি। ফুটেজে ওই ব্যক্তির চেহারা দেখেই এরপর স্থানীয় এলাকায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। শেষমেশ স্যুটকেস উদ্ধারের প্রায় ৩০ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের জালে ধরা পড়েন অরবিন্দ তিওয়ারি। মেয়েকে খুনের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, থানের টিটবালার বাসিন্দা অরবিন্দ একাই থাকতেন। মুম্বইয়ের আন্ধেরি এলাকায় একটি লজিস্টিক ফার্মে কাজ করতেন অরবিন্দ। অরবিন্দের স্ত্রী এবং চার মেয়ে থাকেন উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরে। কিন্তু, চারমাস আগে রোজগারের সন্ধানে সেখান থেকে মুম্বই আসেন অরবিন্দের ২২ বছরের মেয়ে প্রিন্সি। সেখানে একটি সংস্থায় কাজ করার সময়ই সম্পর্ক গড়ে ওঠে এক সহকর্মীর সঙ্গে।

তবে সে সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি অরবিন্দ। পুলিশের দাবি, বারণ সত্ত্বেও কথা না শোনায় মেয়েকে খুনের পরিকল্পনা করেন অরবিন্দ। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, স্যুটকেস উদ্ধারের দিন দুয়েক আগেই মেয়েকে খুন করেন তিনি। তবে এখনও পর্যন্ত প্রিন্সির দেহের বাকি অংশ এবং খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। তবে মাত্র ৩০ ঘণ্টার মধ্যে এই অপরাধের রহস্যভেদে তদন্তকারীদের জন্য বিশেষ পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন থানের পুলিশ কমিশনার বিবেক ফণসালকর।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব