সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : দুই মেট্রো সিটি। দুজনেই ঘূর্ঝণিড় সামলাতে অনভিজ্ঞ। একজনের উপর দিয়ে ইতিমধ্যেই গিয়েছে আমফান। শিরদাঁড়া বেঁকে গিয়েছিল। কামব্যাক করেছে কলকাতা। কিন্ত মুম্বই কি তা পারবে? উঠছে বড় প্রশ্ন

প্রত্যেক বছর বৃষ্টিতে বানভাসি হয় মুম্বই। শিল্পনগরী প্রত্যেক বছরই বর্ষা এলেই ডুবে যায় জলের তলায়। এবার তার সামনে এক্কেবারে নতুন চ্যালেঞ্জ ঘূর্ণিঝড়। প্রশ্ন উঠছে যে রাজ্য করোনা সামলাতে ইতিমধ্যেই নাকানিচোপানি খাচ্ছে। প্রত্যেজ বছর বৃষ্টির জল সামলাতে পারে না। সেই শহর সাইক্লোন সামলাতে পারবে তো?

মহারাষ্ট্র বা মুম্বইয়ের দিকে যে ঘূর্ণিঝড় আসে না তা নয়। এই তো এসেছিল বায়ু নামক ঘূর্ণিঝড়। আছড়ে পড়ার কথা ছিল মহারাষ্ট্রের উপকূলে। হয়নি। বেশীরভাগ ঘূর্ণিঝড় যা মহারাষ্ট্রের দিকে এসেছে হয় সেগুলি গুজরাটের দিকে চলে গিয়েছে নয়তোবা পাকিস্তানের দিকে। আবার এও দেখা গিয়েছে ইয়েমেন , ওমানের দিকে বেশীরভাগ ঘূর্ণিঝড় চলে যেতে। রেকর্ড বলছে শেষ ঘূর্ণিঝড় লণ্ডভণ্ড করেছিল মহারাষ্ট্রের উপকূলের পাশে অবস্থিত মুম্বইকে

সেই ১৮৯১ সালে। তারপর , না তেমন কিছু হয়নি। ১২৯ বছর পর অন্য দিকে হাওয়া বেঁকছে। এদিক ওদিক না করে সোজা মুম্বইয়ের দিকে ধেয়ে আসছে নিসর্গ নামের ঘূর্ণিঝড়। আবহাওয়াবিদরা জানাচ্ছেন স্বাভাবিক নিয়মে ল্যান্ডফলের পর কিছুটা শক্তি হারাবে তবে তা খুব একেটাও নয়। যেতে পারে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত। ঝড়ের গতিবেগ হবে ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২০ কিলমিতার। সর্বোচ্চ গতি হতে পারে ১২৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা।

ঘটনাচক্রে একইরকম অবস্থা হয়েছিল অনভিজ্ঞ কলকাতাতেও। আমফানের মতো সুপার সাইক্লোন কলকাতায় আছড়ে পড়েছিল ১৮৬৪ সালের পর ২০২০। দীর্ঘ ১৫৬ বছর। এমন ঝড় সামলাতে অনভিজ্ঞ শহর। দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছিল। শহরে ঝড়ের সর্বোচ্চ গতি ছিল ১৩৩ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এখানেই শঙ্কা জাগছে।

২ জুন সকাল সাড়ে ১১টায় মৌসম ভবনের বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি অবস্থান করছে পানজিম থেকে ২৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে, মুম্বই থেকে ৪৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং সুরাত থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ পশ্চিমে। আগামী ছ’ঘণ্টার মধ্যেই প্রবল ঘূর্ণিঝড়টি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে (সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম) পরিণত হবে।

সেটি প্রথমে উত্তর অভিমুখে এবং পরে বাঁক নিয়ে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অভিমুখ বরাবর এগোবে।’ তাই ইতিমধ্যেই মহারাষ্ট্র এবং গুজরাতের উপকূলীয় এলাকায় চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। মৌসম ভবন এও জানিয়েছে, ‘পূর্বাভাস অনুযায়ী সবচেয়ে প্রভাবিত হবে মহারাষ্ট্রের উপকূলীয় জেলাগুলো। তার মধ্যে রয়েছে, সিন্ধুদূর্গ, রত্নাগিরি, ঠাণে, রায়গড়, মুম্বই ও পালঘর।’ সবমিলিয়ে মুম্বই শিয়রে সংক্রান্তি তা বলা যেতেই পারে। ভরসা ‘মুম্বা আই’।

Proshno Onek II First Episode II Kolorob TV