হায়দরাবাদ: ঘটনাবহুল আইপিএল ফাইনাল৷ ক্রমাগত চড়াই-উতরাই দু’দলের সামনেই৷ শুরু থেকে পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচের ভাগ্য অবশ্য শেষমেশ আনুগত্য নেয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের৷ চূড়ান্ত উত্তেজক ম্যাচে চেন্নাইকে শেষ বলে হারিয়ে দ্বাদশ আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয় মুম্বই৷ ৫ বার ফাইনালে উঠে এটা রোহিতদের রেকর্ড চতুর্থ খেতাব৷ অন্যদিকে ৮ বার ফাইনালে উঠলেও ৫ বার রানার্স হয়ে থেকে যেতে হয় চেন্নাইকে৷

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মুম্বই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৯ রান তোলে৷ জবাবে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৪৮ রানে আটকে যায় সিএসকে৷ ১ রানের সংক্ষিপ্ত ব্যবধানে ম্যাচ জিতে চেন্নাইয়ের খেতাব ধরে রাখার স্বপ্নে জল ঢেলে দেয় ইন্ডিয়ান্স৷

আরও পড়ুন: হরমনপ্রীত ধামাকায় টি২০ চ্যালেঞ্জ জিতল সুপারনোভাস

মুম্বই ইনিংসের শুরুটা মন্দ হয়নি৷ তবে পর পর উইকেট হারিয়ে তারা বড় রানের ইনিংস গড়তে ব্যর্থ হয়৷ মাঝে হার্দিকের রায়নার হাত থেকে জীবন দান, শেষ ওভারে পোলার্ডের ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দেওয়া বলে ওয়াইড না দেওয়া নিয়ে ড্রামা এবং আম্পায়ারের সতর্কবাণী প্রভৃতির মশলা ছিল ভরপুর৷

চেন্নাই পালটা ব্যাট করতে নামলেও ঘটনার ঘনঘটা ছিল বিস্তর৷ বল রায়নার গ্লাভসে লেগে উইকেটকিপারের হাতে গিয়েছে বলে গোটা মুম্বই দল এবং ফিল্ড আম্পায়াররা নিশ্চিত হলেও রিভিউ নিয়ে আলট্রা এজ স্নিকোর বদান্যতায় বেঁচে যান রায়না৷ ওভার থ্রো’র ভুল থেকে ইশান কিষানের অনবদ্য থ্রোয়ে ধোনির রানআউট হওয়া, ১৯তম ওভারের শেষ বলে ডি’ককের বাই-চার ছাড়া প্রভৃতি একাধিক বিষয়ে গ্যালারিতে উত্তেজনা ছড়ায় বিস্তর৷

আরও পড়ুন: গুরুগ্রামে ভোট দিলেন বিরাট কোহলি

তবে মুম্বইয়ের ক্যাচ ফেলার প্রদর্শনীতেই চেন্নাই শেষ পর্যন্ত লড়াই টেনে নিয়ে যায়৷ বিষেষ করে ব্যক্তিগত হাফসেঞ্চুরির পরেই রাহুল চাহারের হাত থেকে শেন ওয়াটসনের জীবন দান পাওয়াটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়াতে পারত৷ ওয়াটসন শেষমেশ ৮০ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলেন, তবে দলকে জয় এনে দিতে ব্যর্থ হন৷ শেষ ওভারে ৯ এবং শেষ বলে জয়ের জন্য চেন্নাইয়ের দরকার ছিল ২ রান৷ অভিজ্ঞ মালিঙ্গা তাঁর ট্রেডমার্ক ইয়র্কারে শার্দুল ঠাকুরকে এলবিডব্লু করে মুম্বইকে চ্যাম্পিয়ন করেন৷

ওপেনিং জুটিতে ৪.৫ ওভারে ৪৫ রান তোলে মুম্বই৷ কুইন্টন ডি’কক ১৭ বলে ২৯ রান করে আউট হন৷ তিনি ৪টি ছক্কা মারেন৷ ওপেনিং জুটি ভাঙা মাত্রই পর পর উইকেট হারাতে থাকে মুম্বই৷ রোহিত শর্মা ১৫, সূর্যকুমার যাদব ১৫, ইশান কিষাণ ২৩, ক্রুণাল পান্ডিয়া ৭, এবং একবার জীবনদান পেয়ে হার্দিক পান্ডিয়া ১৬ রান করে আউট হন৷রাহুল চাহার ও ম্যাকক্লেনাঘান খাতা খুলতে পারেননি৷ পোলার্ড ৩টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ২৫ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন৷ দীপক চাহার ২৬ রানে ৩টি, শার্দুল ঠাকুর ৩৭ রানে ২টি এবং ইমরান তাহির ২৩ রানে ২টি উইকেট দখল করেন৷

আরও পড়ুন: Mother’s Day-তে প্রকৃত চ্যাম্পিয়নকে শ্রদ্ধা সচিনের

চেন্নাইয়ের হয়ে ওসাটসনের হাফসেঞ্চুরি ছাড়া ডু’প্লেসি ২৬, রায়না ৮, রায়ড়ু ১, ধোনি ২, ব্র্যাভো ১৫, জাদেজা অপরাজিত ৫ ও শার্দুল ঠাকুর ২ রান করেন৷ বুমরাহ ১৪ রানে ২ উইকেট নেন৷ রাহুল চাহার নিয়েছেন ১৪ রানে ১ উইকেট৷ মালিঙ্গা ৪৯ রান খরচ করলেও শেষ বলে ম্যাচ জিতিয়ে হিরোর মর্যাদা পাচ্ছেন৷ এচাড়া ক্রুণাল পান্ডিয়া নিয়েছেন ১টি উইকেট৷