মুম্বই : ২৭ বছরের এক মহিলা রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল ৫৮ বছরের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ধর্ষণের পাশাপাশি ব্ল্যাকমেইল সহ অন্যান্য অভিযোগও উঠেছে বংশরাজ দ্বিবেদী নামে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। পুলিশ ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে।

মুম্বই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতা মহিলা জানিয়েছেন, ২০১৫ সালে তিনি প্রথমবার ওই চিকিৎসকের ক্লিনিকে যান। তাঁর অভিযোগ, ওই বছরেরই মে মাসে তিনি যখন চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে যান, তখন তাঁকে একটি ইনজেকশন দেন ওই ডাক্তার। এরপরে মিনিট ৪৫ তাঁর জ্ঞান ছিল না বলে দাবি করেন নির্যাতিতা। ঘটনার পর বাড়ি ফিরে আসতেই মোবাইলে একটি ভিডিও পান তিনি, যেখানে তাঁর অশ্লীল ভিডিও ছিল। পুলিশের কাছে ওই নির্যাতিতা দাবি করেন, এরপর বেশ কয়েকবার ওই চিকিৎসক জোর করে, ব্ল্যাকমেইল করে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সংস্পর্শে আসে।

এমনকি এই ঘটনার কথা ফাঁস করলে ফল খারাপ হবে বলে হুমকিও দেয় ওই চিকিৎসক। নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, এরপরের বেশ কয়েক বছর ব্ল্যাকমেইলিং-এর শিকার হয়ে ওই চিকিৎসকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হতে হত তাঁকে। ২০১৮-এর ডিসেম্বরে নির্যাতিতা বিয়ে করেন এবং ওই চিকিৎসকের সঙ্গে সব সম্পর্ক ত্যাগ করেন। কিন্তু এরপরেও ফের একবার ওই চিকিৎসক তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং হুমকি দেয়, তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে রাজি না হলে তিনি ভিডিও ছড়িয়ে দেবেন।

এই বছরেরই অক্টোবর মাসে সেই চিকিৎসক তাঁকে ব্ল্যাকমেল করতে উদ্যত হয়। এবং সেই ভিডিও ক্লিপিংসটি তাঁর স্বামীর ফোনে পাঠিয়ে দেয়। ভিডিও পেয়েই স্বামী যখন স্ত্রী-র কাছে সব জানতে চান। তখন এই ব্ল্যাকমেইলিং, ধর্ষণ সহ পুরো ঘটনা খুলে বলেন তিনি। এরপরেই পুলিশের দ্বারস্থ হয় ওই দম্পতি। এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করা হয়। তাঁরা ওই ভিডিও ক্লিপিংসটিকেই প্রমাণ হিসেবে দেখায়।

মুম্বই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বংশরাজ দ্বিবেদীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার পূর্নাঙ্গ তদন্ত চলছে।