মুম্বই : মহারাষ্ট্রের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পঞ্জাব অ্যান্ড মহারাষ্ট্র কোঅপারেটিভ (পিএমসি) ব্যাংকের আর্থিক অনিয়মের ঘটনা প্রভাব ফেলছে রাজনীতির ময়দানেও। কারণ আমানতকারীর মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু হয়েছে এবং তোপের মুখে পড়ছে কেন্দ্র ৷ একজনের ওই ব্যাংকে ছিল ৯০ লক্ষ টাকা যা অবশ্য তোলার উপায় না থাকায় মৃত্যু হয়েছে হৃৎরোগে৷ অন্যদিকে এক চিকিৎসক সেখানে রেখেছিলেন এক কোটি টাকা৷ তা তোলার বলতে কোনও উপায় না নেই৷ তাঁরও মৃত্যু অস্বাভাবিক৷

পিএমসি ব্যাংকের আমানতকারী সঞ্জয় গুলাটি জেট এয়ারওয়েজের প্রাক্তন কর্মী ৷ তিনি সোমবার সকালে ওই ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন এই ইস্যুতে। তিনি বিকেলে বাড়িতে ফিরে খেতে বসে অসুস্থ বোধ করেন এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। তাঁর স্ত্রী বিন্দু জানিয়েছেন, ৯০ লক্ষ টাকা আমানতের পাশাপাশি ওই ব্যাংকে তাঁর সন্তানের জন্য একটি রেকারিং অ্যাকাউন্টও রয়েছে। এদিকে মঙ্গলবার রাতে জানা গিয়েছে, মুম্বইয়ের ভরসোভায় নিবেদিতা বিজলানি নামে এক চিকিৎসক আত্মহত্যা করেন। কারণ আগের রাতে তিনি প্রচুর পরিমাণে ঘুমের ওষুধ খান। তাঁরও ওই পিএমসি ব্যাংকে এক কোটি টাকার আমানত ছিল। যদিও পুলিশের দাবি, এই মৃত্যুর সঙ্গে ব্যাংকের কোনও সম্পর্ক নেই।

সম্প্রতি বাণিজ্য নগরীতে এই সমবায় ব্যাংক কেলেঙ্কারিক প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখাতে দেখা গিয়েছে গ্রাহক ও আমানতকারীদের৷ আর বিধানসভা ভোটের আগে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ ডেকেছে কংগ্রেস৷ অন্যদিকে এই ইস্যুতে এনডিএ শরিক শিবসেনা আবার পিএমসি ব্যাংক-কে অন্য বড় কোনও ব্যাংকের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন৷ এই পরিস্থিতিতে রিজার্ভ ব্যাংকের ইউনিয়ন দাবি তুলেছে অবিলম্বে সমবায় ব্যাংকগুলির উপর শীর্ষ ব্যাংকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখার।

এদিকে গ্রাহক আমানতকারীদের মৃত্যুর জন্য প্রিয়ঙ্কা গান্ধী টুইট করে কটাক্ষ করেন- কেন্দ্রের কু-নীতির সঙ্গে দেশ জুঝে চলেছে। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা মণীশ তিওয়ারির অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গোটা দেশের আর্থিক ভিতকে নড়িয়ে দিয়েছে ।