মুম্বই : বাইরে তখন তাণ্ডব চলছে। শহর মুম্বইতে আছড়ে পড়েছে সাইক্লোন নিসর্গ। এদিকে হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারিতে জীবন মৃত্যুর দড়ি টানাটানিতে আটকে ১৪ বছরের কিশোরীর প্রাণ। দ্রুত দরকার রক্ত। কিন্তু হাসপাতালে সেই গ্রুপের রক্ত নেই। সাইক্লোনের জেরে বাইরে যাওয়ারও উপায় নেই পরিবারের কাছে। ত্রাতা হয়ে এলেন এক পুলিশ কর্মী। নিজের রক্ত দিয়ে বাঁচালেন ওই কিশোরীকে।

মুম্বইয়ের হিন্দুজা হাসপাতালে ওপেন হার্ট সার্জারি হয় ওই মেয়েটির। অপারেশন চলাকালীন খুব প্রয়োজন হয়ে পড়ে রক্তের। এদিকে, মেয়েটির পরিবার, আত্মীয় স্বজন আটকে পড়েছেন সাইক্লোনে। পুলিশ কনস্টেবল আকাশ গায়কোয়াড় এগিয়ে আসেন সাহায্য করতে।

ওই হাসপাতালেই ডিউটি করছিলেন আকাশ। এ পজেটিভ গ্রুপের রক্ত কোথাও না পেয়ে যখন দিগভ্রান্ত ওই কিশোরীর পরিবার, তখন সব শুনে এগিয়ে আসেন আকাশ। নিজের রক্ত দিয়ে বাঁচান ওই কিশোরীকে। সেই ছবি ভাইরাল হল নেট দুনিয়ায়। মুম্বই পুলিশের পক্ষ থেকে ট্যুইট করে ওই কিশোরীর সুস্থ জীবনের কামনা করা হয়েছে।

পুলিশ কনস্টেবল আকাশের এই মানবিকতায় মুগ্ধ নেটদুনিয়া। প্রত্যেক নেটিজেন স্যালুট জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মীকে। তাঁর ও তাঁর পরিবারের উজ্জ্বল ভবিষত্যের কামনা করেছেন সবাই।

আকাশের মত পুলিশ কর্মীই যে দেশের প্রকৃত হিরো, তা জানিয়ে ট্যুইট করেছেন আরও এক নেটিজেন। কেউ বলেছেন দেবদূত হয়ে এসেছেন আকাশ। যেভাবে ওই কিশোরীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন, তা ভোলার নয়।

এদিকে, বুধবার নিসর্গের তাণ্ডব থেকে কোনওক্রমে মুক্তি পায় মুম্বই। ‌বুধবার দুপুর ১ টায় আছড়ে পড়ে সেই ঝড়। এরপর গতি কমতে শুরু করে। আর তা ক্রমশ গতি কমতে কমতে পুনের দিকে চলে যায়। বাণিজ্য নগরীতে তেমন কোনও ক্ষতি হয়নি। যদিও সাইক্লোন নিসর্গের কারণে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। সন্ধে ৭ টা পর্যন্ত বিমান পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। জারি থাকে হাই অ্যালার্টও। মুম্বই থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে আলিবাগে আছড়ে পড়ে এই ঝড়। হাওয়ার প্রবল বেগে গাছ উপড়ে যায়।

আলিবাগে ৯৩ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে হাওয়া বইছিল সেইসময়। বন্ধ হবে যায় রাস্তা। আলিবাগের দক্ষিণ দিক দিয়ে এটি যাবে বলে আগেই জানিয়েছিলেন আবহাওয়াবিদরা। গতি হবে সর্বোচ্চ ১২০ কিলোমিটার। এটি লেভেল ২এর ঘূর্ণিঝড় বলে জানায় হাওয়া অফিস। আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে প্রকাশ্যে মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ জারি করে মুম্বই।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প