তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: তিনটি হরিণের মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বাঁকুড়ার মুকুটমনিপুর জলাধার সংলগ্ন বনপুকুরিয়া ডিয়ার পার্কে। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা এই তিনটি হরিণের দেহ দেখতে পেয়ে বনদফতরে খবর দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হরিণের দেহগুলি উদ্ধার করেন বনকর্মীরা।

রানিবাঁধ থানার পুড্ডি অঞ্চলের বনপুকুরিয়া বনাঞ্চলে এই ডিয়ার পার্কটি রয়েছে। মুকুটমনিপুর জলাধার মাঝখানে থাকায় এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের একটা বড় অংশ ডিয়ার পার্কে ঘুরতে যান। মুকুটমণিপুরে প্রতি বছর পর্যটনের মরশুমে ডিয়ার পার্কে উপচে পড়া ভিড় থাকে। এবছরও শীতের শুরু থেকে মুকুটমণিপুর বেড়াতে আসা পর্যটকদের অধিকাংশই ডিয়ার পার্কেও ঘুরতে যাচ্ছেন।

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎই তিনটি মৃত হরিণ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তবে হরিণ মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধন্দে বাসিন্দারা। স্থানীয় সূত্রে খবর, বনপুকুরিয়া ডিয়ার পার্কে একশোরও বেশি হরিণ রয়েছে। যে তিনটি হরিণের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে তাদের মধ্যে দু’টি পূর্ণবয়স্ক ও একটি শাবক রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শশধর মাহাতো জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তিনটি হরিণের মৃতদেহ দেখতে পেয়ে বনদফতরে খবর দেওয়া হয়। ডিয়ার পার্কে নেটের বেড়া বিভিন্ন জায়গায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। নেট গলে প্রায়ই ডিয়ার পার্কে ঢুকে পড়ে কুকুর, শুয়োর-সহ অন্য জন্তু। বনদফতরকে বিষয়টি জানিয়েও কোনও ফল হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অন্য জন্তুর কামড়ে সংক্রমণ হয়ে গিয়েও হরিণ তিনটির মৃত্যু হতে পারে। তবে হরিণ মৃত্যুর সম্ভাব্য় সব কারণ খতিয়ে দেখছে বনদফতর।

বন দফতরের আধিকারিক বিজয় কুমার জানিয়েছেন, তিনটি হরিণের মৃত্যুর তদন্ত হবে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে এবিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানানো সম্ভব বলে তিনি জানিয়েছেন।