স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ঘাস ছেড়ে পদ্ম ফুল হাতে নিয়েছেন মুকুল রায়। যার হাতে একসময় ঘাসফুল তথা তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনের লাগাম ছিল। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরেই ছিল মুকুল বাবুর স্থান। মুকুল রায়ের অনুগামীরা এখন তৃণমূল কর্মীদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন প্রকাশ্যে।

দক্ষ সংগঠক মুকুল রায়ের দলবদলে স্বাভাবিকভাবেই বিপাকে পড়তে চলেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। সরাসরি সেই কথা স্বীকার না করলেও দলের যে বড় ক্ষতি হয়ে গেল তা বেশ ভালোই টের পেয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। মুকুল রায়ের এই ফুল তথা দল বদলের পর দল ভাঙানোর কাজ শুরু করেছে তাঁর অনুগামীরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে এই ব্যক্তিরাই একসময় ভারতীয় জনতা পার্টি এবং নরেন্দ্র মোদীকে সর্বক্ষণ তিরস্কার করতো।

আরও পড়ুন- মুকুলকে দলবদল করিয়ে তৃণমূলের উপর ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালিয়েছে বিজেপি

যেমন গার্গী মুখার্জী। এক সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নানা ভাষায় সমালোচনা করেছেন৷ তবে ভোল পাল্টে শুক্রবার তিনি ফেসবুকে লেখেন, “ছাত্র ও যুব ভাই বোন যারা বিজেপি তে যোগ দিতে চান অবশ্যই ইনবক্সে যোগাযোগ করুন।” শুধু তাই নয়, ফেসবুক পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘ভাইপোমূল’ বলেছেন।

আরও পড়ুন- অধীরের কাছে বিজেপির মুকুল ‘সাহসী’ নেতা

এছাড়াও সংঘ প্রধান মোহন ভগবতের প্রশংসাও করেছেন ফেসবুক পোস্ট করে। অথচ এই গার্গী মুখার্জীই একসময় ছিলেন ঘোরতর মোদী বিরোধী। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, “জনগণ কে ভাঁওতা দেওয়া, জনগণের টাকায় বিদেশ ঘোরা ও জনগণের টাকায় দিনে চারবার দশ লাখের শ্যুট বদলানো, নিজের দেশের গরীব কৃষকদের আত্মহত্যায় বাধ্য করে বাংলাদেশকে ৪৫০০০ কোটি টাকা সাহায্যের জন্য এই অপদার্থ নরেন্দ্র মোদীকে যে কসিয়ে কয়েকটা থাপ্পড় মারবে, আমার ব্যক্তিগত টাকা থেকে পাঁচ লাখ টাকা তাকে আমি দেবো।”

আরও পড়ুন- সিদ্ধার্থশঙ্করের জামানাকেও হার মানাচ্ছে মমতা: বিস্ফোরক মুকুল

তৃণমূল ভাঙিয়ে সংগঠন মজবুত করার খেলায় বিজেপি শিবিরও পিছিয়ে নেই। প্রকাশ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য তৃণমূল কর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছে বিজেপি নেতারা। হাওড়া জেলার বাউড়িয়ার বিজেপি নেতা রুদ্র প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় ফেসবুকে একটি সুদীর্ঘ পোস্ট করে তৃণমূল কর্মীদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের এনডিএ শরিক হওয়া থেকে শুরু করে পরে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে ক্ষমতা দখল এবং পরে জোট থেকে বেড়িয়ে আসার যাবতীয় কাহিনী তিনি বর্ণনা করেছেন ফেসবুক পোস্টে। একইসঙ্গে বর্তমান সময়ে আদি এবং নব্য তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের কাহিনীও ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেছেন রুদ্র প্রসাদ বাবু।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.