স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ‘শুভ্রাংশু পরিণত-সাবালক৷ ও বিজেপিতে যোগ দেবে কিনা সেটা ওকেই জিজ্ঞাসা করুন৷ পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের বিজেপিতে যোদদান নিয়ে এমনই কৌশলী মন্তব্য করলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়৷

মুকুল রায় বিজেপিতে যাওয়ার পর থেকেই তাঁর পুত্র তথা তৃণমূল বিধায়ক শুভ্রাংশু রায়ের গেরুয়া শিবিরে যোগদান নিয়ে নানান জল্পনা এতদিন চলছিল৷শনিবার ফেসবুকে সেই জল্পনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন শুভ্রাংশু৷ তিনি লিখেছেন, ‘অপমান হতে হতে দেওয়ালে ঠেকেছে পিঠ, অগ্নিপরীক্ষা দিতে দিতে হৃদয়টা পুরো ঝলসে গেছে।’

তার আগে মুকুল-পুত্র বলেছিলেন, “আমি বিজেপি-তে যেতে পারি একটাই শর্তে। যদি দু’বছরের মধ্যে বীজপুরের রেলওয়ে কোচ ফ্যাক্টরি চালু করা হয়। আর বীজপুরের ছেলেদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা থাকে।” শুভ্রাংশু এ-ও বলেন, “দিদিই তো ওই ফ্যাক্টরির শিলান্যাস করেছিলেন। তারপর নতুন সরকারের সময় কাজ থমকে যায়।”

শোনা যাচ্ছে, রাণাঘাটে মোদীর সভামঞ্চে শুভ্রাংশু রায় গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাতে পারেন। রবিবার বিজেপির রাজ্য দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে মুকুলকে প্রশ্ন করা হয়, ‘শুভ্রাংশু রায় কি বিজেপিতে যোগদান করতে চলেছেন?’ উত্তরে মুকুল রায় বলেন, ‘শুভ্রাংশু পরিণত ও সাবালক। জল্পনা তো অনেক কিছুই হতে পারে। মমতাও তো লাইন দিয়ে আছে।’

মুকুল রায় দল ছাড়ার পর তৃণমূলে খানিকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন শুভ্রাংশু রায়। কিন্তু দল ছাড়েননি। শুভ্রাংশু রবার বলে এসেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁর নেত্রী। বাবা গেছে যান, তিনি যাবেন না। এমনকি অর্জুন সিং-এর দলবদলের পরও কাঁচড়াপাড়ার বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক করে মুকুল-পুত্র জানিয়েছিলেন, “দীনেশদা দু’লক্ষ ভোটে জিতবে। বীজপুরে সব থেকে বেশি লিড দেব।”কিন্তু শুভ্রাংশুর এই ফেসবুক পোস্ট থেকে অন্যরকম গন্ধ পাচ্ছেন রাজনৈতিক পর্যেবক্ষরা৷ তাঁরা এটাও মনে করছেন যে, বাপ-ব্যাটা মিলে আপাতত তৃণমূলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে৷ আর এই ছক যে মুকুল রায়ের পাকা মাথা থেকেই বেরোচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷