• . পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপির আহ্বায়ক মুকুল রায়
    . চোরকে চোর বলার হিম্মত রাখুন , বলেছেন দিলীপ ঘোষ
    . তৃণমূল যেন মনে রাখে, লড়াইটা বুথেই শেষ হবে না ৷ আমরা কিন্তু শ্মশান পর্যন্ত নিয়ে যাব ৷ বক্তব্য দিলীপের ৷
    . পালটা বক্তব্যে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, বিজজেপি নিজেই একটা ‘উল্টানো কচ্ছপ’ ৷

কলকাতা : মুকুল রায়কে সামনে রেখেই বঙ্গ বিজেপি পঞ্চায়েত দখলের ছক কষা শুরু করে দিল ৷ শনিবার পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে একটি কর্মীসভায় পশ্চিমবঙ্গে দলের পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং জাতীয় সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিবপ্রকাশের সামনে মুকুলবাবুকেই পঞ্চায়েতে দলের আহ্বায়ক নির্বাচিত করা হয়েছে ৷ প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য বিজেপি’তে আসার পর এই প্রথম কোনও উল্লেখযোগ্য পদে এলেন মুকুলবাবু ৷ এদিন আবশ্য সাংবাদিকদের কাছে তিনি স্বীকার করেন যে, ২০১৩ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে থাকাকালীন, নিজে চোখে দেখেছেন যে শাসক দল কীভাবে ভোট লুঠ করেছে এবং বিরোধীরা মনোনয়ন জমাই দিতে পারেনি ৷

এদিন মুকুলবাবু আরও জানান, আমরা জানি যাতে বিরোধী পক্ষ Nomination না দিতে পারে, বুথে বুথে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়, সেই জন্য কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে ৷ বিরোধী শূণ্য পঞ্চায়েত তৈরি করার কথা তৃণমূলের মন্ত্রীরা, ব্লকস্তরের নেতারা বলছেন ৷ চেষ্টা চলছে বিরোধীদের Nomination যাতে না হয়, তাতে লড়াইয়ের সম্ভাবনাই আর থাকবে না ৷

তবে মুকুল বায়ের থেকেও বেশি উত্তাপ ছিল রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে ৷ রীতিমতো বাক্যবোমা ফাটিয়েছেন দিলীপবাবু ৷ কর্মীদের বলেছেন, ‘চোরকে চোর বলার হিম্মত রাখুন ৷ পঞ্চায়েতের বাইরে ঘেরাও করে দূর্নীতির কথা চিৎকার করে বলুন ৷ বলুন, ওই পঞ্চায়েতের প্রধান চোর, সমিতির চেয়ারম্যান চোর, জেলা সভাধিপতি চোর ৷ কর্মীদেরকে সংগঠিত করে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে লড়াই করতে হবে ৷’

দিলীপবাবুর স্পষ্ট কথা, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের স্তরে স্তরে দূর্নীতি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস ৷ এবার চোরকে চোর বলার সময় এসে গেছে ৷ প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, কিছুদিন আগেই তৃণমূল নেত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘চোরেদের রানি’ বলেছিলেন দিলীপ ৷ শনিবারের এই সভায় রাজ্যের পঞ্চায়েতগুলিকেই বকলমে চোরেদের আখড়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন বিজেপি সভাপতি ৷

দিলীপবাবুর বক্তব্য, (দলীয় কর্মীরা) … আপনারা চান বা না চান, বিজেপি’কেই রাজ্যের মানুষ প্রধান বিরোধীদল হিসেবে মেনে নিয়েছে ৷ তাই রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন লড়তে হবে জেতার জন্য ৷ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করেছিলাম ৷ কিন্তু পাঁচ বছরে পরিবেশ পরিস্থিতি অনেক পালাটে গেছে ৷ প্রস্তুতিও সেরকম হওয়া উচিত ৷ ৬ মাস ধরে প্রস্তুতি চলছে ৷ পুলিস সহায়তা করবে না ৷ তা বলে কি আমরা লড়ব না? হ্যা লড়ব এবং জিতবো ৷ ভোটের ফল না বেরনো পর্যন্ত লড়াইয়ের ময়দানে থাকবো ৷ তৃণমূল যেন মনে রাখে, লড়াইটা বুথেই শেষ হবে না ৷ আমরা কিন্তু শ্মশান পর্যন্ত নিয়ে যাব ৷

‘সম্প্রতি দুটি উপনির্বাচনে মানুষ আমাদের বলেছিল আমরা ভোট দিতে পারব তো ৷ আমরা তাদের বলেছিলাম হ্যা পারবেন ৷ আমরা কেন্দ্রীয় বাদিনীর ব্যবস্থা করছি ৷ কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছিল ৷ তাও অতি সামান্য ৷ পরে সেই সব মানুষই আমাদের বলেছিল, কী আর করলেন, আমরা তো নিজেদের ভোটই দিতে পারলাম না ৷ এমন প্রশ্ন Nomination জমা দিতে পারব কি না ৷ তাই বলছি কর্মীরা সংগঠিত হয়ে লড়াই করুন,’ বলেছেন বিজেপি সভাপতি ৷

গ্রাম থেকে আসা নেতাদের উদ্দেশ্যে দিলীপবাবু বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা পাঠাচ্ছে ৷ কিন্তু পঞ্চায়েতে তৃণমূলের চোরেরা তা লুটপাট করে নিচ্ছে ৷ তাই হিম্মতের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বলতে হবে ৷ সিপিএম-কংগ্রেসকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না ৷ আর যদি পাওয়াও যায়, তবে তৃণমূলের মার হজম করার পর তারা আবার অদৃশ্য হবে ৷ ওদের জোটে কোনও কাজ হবে না ৷ বিরোধী ভোটটা পড়বে পদ্মফুলে ৷

দিলীপবাবু বক্তব্যের প্রতুত্তরে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানান, বিজেপি একটা ‘উল্টানো কচ্ছপ’ ৷ নিজেদের সমস্যা নিয়েই ওরা নাজেহাল ৷ কী বলল, কিছু যায় আসেনা ৷