স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের ঘটনায় মুকুল রায়কে জেরা করবে সিআইডি। এমনই খবর মিলেছে সূত্র মারফত।

শনিবার সন্ধ্যায় আততায়ীদের গুলিতে খুন হন নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিত বিশ্বাস। মাজদিয়ার ফুলবাড়ি এলাকায় তাঁকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

আরও পড়ুন- নদিয়ায় তৃণমূল বিধায়ককে গুলি করে খুন

বিধায়ক খুনের ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই কৃষ্ণনগর পৌঁছেছেন সিআইডির আধিকারিকরা৷ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে ফরেনসিক দলও৷ যে অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তার ব্যালিস্টিক পরীক্ষা হবে বলে জানা গিয়েছে৷

বিধায়ক খুনের পিছনে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের হাত রয়েছে। প্রথম থেকেই এই অভিযোগ করে আসছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মুকুলবাবুর নাম উল্লেখ করে সংবাদ মাধ্যমের সামনে অভিযোগ করেন নদিয়া জেলা তৃণমূলের সভাপতি গৈরীশংকর দত্ত। তাঁর কথায়, “গত তিন বছর ধরে মুকুল রায় আমাদের ক্ষতি করার অনেক চেষ্টা করে চলেছে। এবার সত্যকিতকে খুন করে দিল। মুকুল রায় নদিয়ার ঢুকলে ফল ভালো হবে না।”

আরও পড়ুন- তৃণমূল বিধায়ক খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ২

যদিও তৃণমূলের দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির জাতীয় নেতা এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুকুল রায়। তিনি বলেছেন, “সত্যজিৎ খুব ভালো মানুষ ছিলেন। ও কারো অপকর্মে বাধা দিয়েছিল বলেই খুন হতে হল। সঠিক পথে তদন্ত হলেই সব ফাঁস হবে।” এই খুনের পিছনে তৃণমূলের দলীয় কোন্দল রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সত্যজিৎ বিশ্বাস

সূত্রের খবর, এই বিধায়ক খুনের ঘটনার তদন্তে মুকুল রায়কে জেরা করতে চলেছে সিআইডি। সত্যজিৎ বিশ্বাসের খুনে অভিযুক্তদের প্রথম সারিতেই রয়েছে তাঁর নাম। সেই কারণেই বিজেপির জাতীয় স্তরের এই নেতাকে জেরা করার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে সিআইডি সূত্রে।

পুলিশ সূত্রের খবর, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে৷ ধৃতদের নাম সুজিত মণ্ডল ও কার্তিক মণ্ডল৷ গতকালের ঘটনার পরেই এদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়৷ তবে দুজনেরই বক্তব্যে অসঙ্গতি থাকায় এঁদের গ্রেফতার করা হয়৷ অপর অভিযুক্ত অভিজিত পুণ্ডারির খোঁজে তল্লাশি চলছে৷

আরও পড়ুন- ‘ওই অনুষ্ঠানে প্রায় ৮-১০ বার লোডশেডিং হয়েছিল’

স্থানীয় সূত্রে খবর, অভিযুক্ত সুজিত মণ্ডল বিজেপি কর্মী ছিলেন৷ তবে অপর অভিযুক্ত কার্তিক মণ্ডল একটি গেঞ্জি কারখানার শ্রমিক ছিলেন৷ তাঁর পরিবারের দাবি তিনি কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না৷ এদিকে, ফেরার অভিজিতের বাড়ি ভাঙচুর করে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা৷