স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: কলকাতা এবং বিধাননগরের প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের উপর থেকে রক্ষাকবজ তুলে নিয়েছে আদালত। যেকোনো মুহূর্তেই গ্রেফতার হতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ পুলিশকর্তা রাজীব। এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বুধবার দেখা করবেন মমতা। পুরো বিষয়টিকে কেমন দেখছে রাজ্য বিজেপি?

বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের বক্তব্য, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকালও নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে তাঁর আক্রমণ শানিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী কি কারণে দেখা করতে চাইছেন এটা তো রাজনৈতিক দল হিসাবে ভারতীয় জনতা পার্টির বলা সম্ভব নয়। আমরা বলতেও চাই না। এটা ভারতবর্ষের সংবিধানের পরম্পরা। ফেডারেল স্ট্রাকচার।” মুকুল আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট রাজীবের উপর রক্ষা কবজ তুলে নিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টও তা তুলে নিয়েছে। বারাসত কোর্টে মামলা করেছে।

সুতরাং, একখানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেন সময় চেয়েছে তা বলা খুব কঠিন। বলাটা সমীচীন নয়। মুকুলের কাছে সাংবাদিকের প্রশ্ন, কোথায় কি মনে হয়েছে যে বিপদে পরেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছুটছেন মমতা? মুকুলের জবাব, এক্ষেত্রে মন্তব্য করা যাবে না, মন্তব্য করাটাই অসমীচীন। মোদী লোকসভায় প্রচার করতে এসে বলেছিলেন ‘‘স্পিডব্রেকার দিদি’ঘূর্ণীঝড় নিয়েও রাজনীতি করতে ছাড়ছেন না৷ হাতেনাতে ফল ভোগ করে বাংলার সাধারণ জনতা৷ রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সামুদ্রিক ঘূর্ণীঝড় ‘ফণী’কে নিয়ে যে রাজনীতি শুরু করেছে তা দুর্ভাগ্যজনক৷ বাংলায় কেন্দ্রীয় সরকার সংস্কারের কাজ করতে পারছে না৷’’

মোদীর সাফ কথা ছিল, “স্পিডব্রেকার দিদি এত অহংকারী যে আমার ফোনের জবাবও দেননি৷ বাংলায় ঘূর্ণীঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে জানতে দু’বার ফোন করেছিলাম৷ অহংকারী দিদি কথাও বলেননি৷ প্রসঙ্গত, আগেই মোদী বলেছিলেন, ‘‘ওড়িশার খবর নিয়ে এলাম, বাংলার খবর জানতে পারলাম না৷’’ চুপ করে করে বসে থাকেন নি মমতাও।

তিনি বেসিরকারী চ্যানেলে রাস্তায় হাটতে হাটতে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ওড়িশার ভোট হয়ে গিয়েছে…। তিনি হয়ত বলতে চেয়েছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন শেষ হয়নি। রাজনৈতিক বাধ্য বাধকতা থেকেই তিনি মোদীর সঙ্গে দেখা করতে চাননি।