স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: শেষ কয়েকমাস ধরে বাংলায় পদ্ম ফোটানোর কাজে ব্রতী রয়েছেন মুকুল রায়৷ সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন শুরু হওয়ার পর থেকে ব্যস্ততা চরমে৷ কমেছে বিশ্রামের সময় তাই সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সর্বভারতীয় সভাপতির পাশে বসেই ঢুলে পড়লেন তিনি৷

সোমবার রাজ্যে তৃতীয় দফা ভোট গ্রহণের ঠিক আগেপি৷ সবং-এ বাই-ইলেকশানে ২.৬ শতাংশ ভোট থেকে ১৮% এ পৌঁছায় বিজেপি৷ নোয়াপাড়া বিধানসভা উপনির্বাচনে প্রায় ৪০০ শতাংশ ভোট বাড়ে বিজেপি প্রার্থী সন্দিপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের৷ উলুবেড়িয়া লোকসভার উপনির্বাচনেও প্রায় ৬০০ শতাংশ ভোট বাড়ায় বিজেপি৷ বিশেষজ্ঞদের মতে বিজেপির ভোট বাড়ার পেছনের কলকাঠিটি মুকুলই নেড়েছেন৷

রাজ্যের শেষ পঞ্চায়েত নির্বাচনেও মুকুলের পরিশ্রম সাফল্য এনে দিয়েছে রাজ্য বিজেপি শিবিরে৷ ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সারা রাজ্যে বিজেপির ভোট ছিল ৩ শতাংশ৷ ২০১৮ পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসক দলের বেনজির সন্ত্রাসের মধ্যেও বাংলায় ২৭ শতাংশ ভোট পায় বিজেপি৷

প্রায় ৭০০০টি পঞ্চায়েত আসন গেরুয়া শিবিরের দখলে আসে৷ এর ফলে অমিত শা এবং মোদী বুঝতে পারেন বাংলার রাজনীতিতে গেরুয়া রঙ লাগাতে মুকুলকে দরকার৷ বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে জায়গা হয় মুকুলের৷ এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিজেপিতে গুরুত্ব বেড়েছে মুকুলের৷ বিজেপির রাজ্য নির্বাচন সেলের আহ্বায়ক হন মুকুল৷ সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের ৪২ টি আসনে মুকুলের পছন্দের প্রার্থী রয়েছে ১২-১৩ জন৷

এই প্রার্থীদের জেতানো বড় চ্যালেঞ্জ মুকুলের কাছে৷ পাশাপাশি এসবের মাঝেই চিটফান্ড মামলাতে সিবিআইয়ের কাছে হাজিরা দিতে হয়েছে বিজেপির এই ঠান্ডা মাথার নেতাকে৷ যেটা নিয়ে বিরোধীরা আক্রমণ করতে ছাড়েনি বাংলা রাজনীতির এই চাণক্যকে৷ মুকুল পুত্র শুভ্রাংশুও (যিনি বর্তমানে দিশপুরের তৃণমূল বিধায়ক) সম্প্রতি জানিয়েছেন তৃণমূলে অপমানিত হতে হচ্ছে তাঁকে৷ শর্ত-সাপেক্ষ বিজেপিতে যোগ দানের ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন মুকুল-পুত্র৷

ঘনিষ্ঠমহলে মুকুল বলেছেন ছেলেকে নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন তিনি৷ এই সব বিষয়গুলোর পাশাপাশি মোদী-অমিত শা সহ রাজ্যে বিজেপির কেন্দ্রীয় স্তরের একাধিক শীর্ষ নেতা বাংলায় নির্বাচনী জনসভার দায়িত্বও সামলাতে হচ্ছে মুকুলকে৷ সঙ্গেই লোকসভা ভোটে বাংলায় বিজেপির ভালো ফলের জন্য ঘুঁটি সাজাচ্ছেন মুকুল৷ স্বাভাবিকভাবেই সব মিলিয়ে ক্লান্ত বাংলা বিজেপির এই কালো ঘোডা়৷

সোমবারে অমিত শা-র পাশে বসে অল্প সময়ের জন্য ঘুমিয়ে পড়ার প্রসঙ্গে মুকুলকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, ভোটের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকার জন্য ঠিক মতো বিশ্রামের সুযোগ পাননি৷ প্রচুর পরিশ্রমের কারণেই কিছু শারিরীক অসুস্থতা রয়েছে৷ ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করার সময় পাচ্ছেন না৷