স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সিমেন্ট কারখানার শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জিন্দলদের এত বড় প্রকল্প রাজ্যে চালু হলেও তা নিয়ে রাজ্যকে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের ভিন্ন দুই বিরোধী দলের দুই নেতা।

আরও পড়ুন- নিউটাউনে শুরু হচ্ছে বিশ্ববঙ্গ সম্মেলন

শিল্প নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণকারী উক্ত দুই নেতা হলেন সিপিএম বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী এবং বিজেপি নেতা মুকুল রায়। নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে রাজ্যের শিল্প প্রসঙ্গে রাজ্য সরকারকে কটাক্ষ করেন লাল ও গেরুয়া শিবিরের দুই নেতা।

বাম আমলে ২০০৮ সালে শালবনির জামবেদিয়ায় ফডারফার্ম এলাকায় প্রায় ৫হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করেছিল জিন্দলরা৷ ওই বছরের ২ নভেম্বর কারখানার শিলান্যাস সেরে মেদিনীপুরে ফেরার পথে ভাদতুলায় ৬০নম্বর জাতীয় সড়কে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় লক্ষ্য করে মাইন বিস্ফোরণ ঘটায় মাওবাদীরা৷ অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান মুখ্যমন্ত্রী সহ তিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷

তারপর থেকে জঙ্গলমহলে মাওবাদী কার্যকলাপের জেরে স্তব্ধ হয়ে যায় কারখানা নির্মাণের কাজ৷ একসময় শালবনি থেকে নিজেদের ইস্পাত প্রকল্প গুটিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে জিন্দল গোষ্ঠী৷ পরে পালাবদলের বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে অবশেষে কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু হয়৷

আরও পড়ুন- বিশ্ব বাণিজ্য সম্মেলন শুরুর মুখে আদানি, আম্বানিদের সমালোচনায় মুখর শ্রমমন্ত্রী

এদিন শালবনিতে জিন্দলগোষ্ঠীর সিমেন্ট কারখানার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি এই সিমেন্ট কারখানার শিলান্যাস করেছিলেন তিনি৷ স্বভাবতই, দু’বছরের মধ্যে সিমেন্ট কারখানা চালু হওয়ায় খুশি স্থানীয়রা৷ কিন্তু, এই জমিতেই ইস্পাত কারখানা হওয়ার কথা ছিল। সেই কারখানা চালু করতে রাজ্য সরকার উদ্যোগী হোক এমনই চাইছেন এলাকাবাসীরা। এই বিষয়টিকেই হাতিয়ার করেছেন যাদবপুরের বিধায়ক তথা সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। রবিবার ইছাপুরের আনন্দমঠে নির্বাচনী প্রচারে তিনি বলেন, “শালবনীতে নাকি কারখানা হচ্ছে? ওখানে ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে স্টিল প্ল্যান্ট গড়ে ওঠার কথা ছিল। কিন্তু এখন শুনছি এখানে মাত্র ৫০০ কোটির সিমেন্ট কারখানা হবে।”

সোমবার সকালে নোয়াপাড়া বিধানসভার অন্তর্গত মোহনপুর পঞ্চায়েত এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে হাজির ছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। দলীয় প্রার্থী সন্দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় অন্যান্য নেতৃত্বের সঙ্গে মিছিলে হাঁটেন। সেখানেই রাজ্যে শিল্প সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “গত সাত বছর তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার চলছে কিন্তু কোথাও শিল্প দূরের কথা একটি ইঁটও পড়েনি।”